যোগাযোগ খাতে উন্নয়নের ছোঁয়া, যেখানে বাংলাদেশ এক উজ্জল দৃষ্টান্ত

: ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মহাজোট সরকার যে বিষয়টি নিয়ে সব চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধি করছেন তা হচ্ছে যোগাযোগ খাত। মহাজোট সরকারের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। সেটি ২০১৪ সালের গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত।

গত প্রায় নয় বছরে বাংলাদেশের সড়ক, রেল, লঞ্চ ও আকাশপথের যোগাযোগে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, যে ধারাকে বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করা যায়। দিন বদলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে মহাজোট সরকার।  তারপর থেকেই ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে দেশের যোগাযোগ খাতে।  উন্নত দেশের মতো বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ খাত।  বর্তমানে এ খাতে ১৫টিরও বেশি বৃহৎ প্রকল্প চলমান রয়েছে।  প্রায় সম্পন্ন হয়েছে একাধিক প্রকল্প। চলমান এসব প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলে এ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।  এর বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ, পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন সরকারের অন্যতম সাফল্য। দেশজুড়ে যোগাযোগ খাতের এমন উন্নয়নের সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে দেশের সাধারণ মানুষ।

সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ অনুষঙ্গ হিসেবে পদ্মা সেতু নির্মাণ। সে প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে সহজভাবে। চলছে বিভাগ, জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও উন্নয়ন প্রকল্প।  গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেন, কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ, হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, উত্তরা থেকে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প, মগবাজার-মৌচাক ফাইওভার, রংপুর ফোর লেন, কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী ২য় সেতু নির্মাণ, ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট এবং পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগের মতো বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।  উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে কয়েক হাজার প্রকল্পের।

শেখ হাসিনা সরকারই রেলের উন্নয়নে পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলছে এই মন্ত্রণালয়ের কাজ।  নতুন নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প চালু আছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ লাকসাম থেকে চিনকির আস্তানা পর্যন্ত ডাবল লাইনে উন্নীত করা হয়েছে। টঙ্গী থেকে ভৈরব পর্যন্ত রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নয়ন করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।  ভৈরবে মেঘনা নদীর উপর নির্মাণ করা হচ্ছে দ্বিতীয় রেলসেতু। রাজধানী ঢাকা থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। আগেকার দিনে রেলের সেবার কথা মনে পড়লে ভড়কে যেতে হয়, মানুষ তো রেলগাড়িতে যাতায়াত প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল।  অথচ শেখ হাসিনা সরকারের নিত্যনতুন পদক্ষেপ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রাণ ফিরিয়েছে। মহাজোট সরকারের পাঁচ বছর এবং বর্তমান সরকারের প্রায় দুই বছরে সড়কপথের মতো রেলপথেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।  রেলের উন্নয়নে বিগত মহাজোট সরকারের সময়ই পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার রেল খাতকে এখনো অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে নতুন নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। রেলের উন্নয়নে আরও বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইঞ্জিন ও দুই শতাধিক নতুন কোচ।

সুষ্ঠু যোগাযোগব্যবস্থা একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। ভিশন-২০২১ লক্ষ্যপূরণ এবং ঘোষিত সময়ের আগেই দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে। এ লক্ষ্যেই সারা দেশে ব্যাপকভাবে যোগাযোগ খাতে উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন পরিকল্পনাও। এগিয়ে যাক দেশ। সমৃদ্ধ হোক বাঙালির জীবনধারা।