ব্যক্তি স্বার্থে সরকারের সাথে সমঝোতার চেষ্টা তারেকের!

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার যখন তার দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে এবং তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে, ঠিক তখনই তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সরকারকে সমঝোতার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়। তবে সমঝোতার প্রস্তাব সরকার গ্রহন বা প্রত্যাখ্যান করেছে কিনা সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা যায় তারেক জিয়ার নির্দেশে লন্ডন থেকে ফিরে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ কতৃক প্রদত্ত এই সমঝোতা প্রস্তাবে বলা হয়,

প্রথমত: নির্বাচনের আগে সরকার তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক চাপ দেবে না। আর বেগম জিয়াকে জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিনিময়ে খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকবে বিএনপি।

দিত্বীয়ত: প্রথম শর্ত পুরনের পর দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানের সাজা মওকুফের ব্যবস্থা করা এবং অন্যান্য মামলাগুলোও প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে বিএনপি নির্বাচনে কোনো শর্ত ছাড়াই অংশগ্রহণ করবে। তবে সেই অংশগ্রহণ হবে সমঝোতার ভিত্তিতে। বিএনপি নির্বাচন করবে ক্ষমতায় যাবার জন্য নয়, আওয়ামী লীগকে বৈধতা দেওয়ার জন্য।’তারেক জিয়া নির্বাচনে বিএনপিকে এমনভাবে নামাবেন যেন আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত হয়।

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ট ও বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, তারেক জিয়ার এমন প্রস্তাব বিএনপির জন্য অপমানজনক। কিন্তু তারেক সাহেব সব সময় দলের চাইতে নিজের স্বার্থকেই বড় করে দেখেছেন। টাকা খেয়ে তারেক জিয়া ২০১৪ সালের নির্বাচনও বর্জন করেছিল। না হলে ৬ সিটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর কোনো দল নির্বাচন বর্জন করে?’ ঐ নির্বাচন বর্জন করা ছিল আত্মহত্যার সামিল, যার খেসারত আজও দিতে হচ্ছে বিএনপিকে।

তিনি আরো বলেন, তারেক সাহেব সমঝোতা প্রস্তাবের শর্তে স্বার্থপরের মতো নিজের সাজা মওকুফ এবং সব মামলা প্রত্যাহারের কথা বললেও দলের অন্যান্য নেতাদের মামলা এমনকি দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করলেন যে নেত্রী এবং তার বয়োবৃদ্ধ মা বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করেননি। এছাড়া নির্বাচনে বেগম জিয়ার অংশ গ্রহণ প্রশ্নেও কোনো কথা নেই। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে?

তবে সরকার তারেক রহমানের সমঝোতা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ঐ নেতা বলেন, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেই সেটা বোঝা যাবে। এদিকে গত ১৫ মে খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপির তেমন কোনো তৎপরতা না থাকা এবং ১৬ মে উচ্চ আদালত কর্তৃক বেগম জিয়ার জামিন বহাল থাকায় এটাকে অনেকেই তারেক জিয়ার সমঝোতার প্রস্তাব গ্রহণের আলামত হিসেবেই দেখছেন।

বিএনপির ওই নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে যুক্তরাজ্যে যোগাযোগ করা হলে জানা যায় যে, তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারকে তিনটি চিঠি দেয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস এখন ওই চিঠির ব্যাপারে কোনো তাগাদা দিচ্ছে না। ফলে যুক্তরাজ্য সরকারও এনিয়ে আর কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলায় মামলা ও প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফরের সময়ে বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলারও কোনো অগ্রগতি নেই।

সব মিলিয়ে বিএনপিতে এখন কানাঘুষা চলছে যে তারেক রহমান নিজের স্বার্থে সমঝোতা প্রস্তাব দিয়েছেন। বেগম জিয়া অস্থায়ী জামিন পেলেও আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়া হয়তো আগামী নির্বাচন করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তারেক জিয়া বিএনপিকে নির্বাচনে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। মনোনয়ন বাণিজ্য করবেন এবং এমন প্রার্থী বাছাই করবেন যেন বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হয়।