ঢাকা বোর্ডের এসএসসি’র ফল বিপর্যয়

এসএসসি’র ফল বিপর্যয় স্কুলগুলোতে ইংরেজি ও গণিতের দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আর্থিক অনটন সংকটে নিয়মিত ছিল না শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বোর্ডের ৩টি শতভাগ ফল বিপর্যয়ের কারনে হিসাবে দেখা যাচ্ছে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, একই স্কুলে বার বার ফল বিপর্যয় হচ্ছে না। তবুও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্তক বার্তা দিচ্ছেন তারা।

ঢাকার নিকটে গাজীপুরের কাপাশিয়ায় আব্দুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ষাটের দশকে। বরাবরই ভালো করা স্কুলটি গত দুই বছরের ফল শতভাগ পাস। তবে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বিভাগে যে তিনটি স্কুল অকৃতকার্য হয়েছে আব্দুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় তার মধ্যে একটি। শিক্ষক-অভিভাবক সকলেই বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরেই শিক্ষক স্বল্পতা এই বিপর্যয়ের কারন। এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে জানা যায় অবসরে গেছেন ইংরেজী ও গণিত শিক্ষক। আব্দুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজমান হোসেন পলি বলেছেন, গত দুই বছর ধরে ইংরেজী শিক্ষক নেই। তার সাথে গণিত ও শারিরীক শিক্ষার শিক্ষকও নেই।

আব্দুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম বলেছেন, আমরা কয়েক বার আবেদন করা হয়েছে শিক্ষক দেবার জন্য। শিক্ষক না থাকার কারনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা অনেক অসুবিধা হচ্ছে।

শতভাগ ফেল করা দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি ফরিদপুরের বকশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এখানেও রয়েছে জনবল ও অবকাঠামোর সংকট। অন্য দিকে নদী ভাঙ্গনের কারনে ক্লাস হয়নি বছরের বেশির ভাগ সময়েই।

জামালপুরের শরিষাবাড়ী উপজেলার এসিএসডিসি মডেল স্কুল, এবারই প্রথম বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেয় স্কুলের ৫ শিক্ষার্থী।

গত ৪ বছরের পরিসংখ্যানের দেখা যায় ঢাকা বোর্ডে প্রতি বছরই দুই থেকে তিনটি স্কুল শতভাগ ব্যর্থ।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের সচিব শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেছেন, যদি পাঠদানের অনুমোতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হয়, সে ক্ষেত্রে সে পাঠদান বাতিল করা হয়, একটি নির্দৃষ্ট সময়ের জন্য। একই সাথে যদি প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয় তাহলে তার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। বিপর্যয় কাটাতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা বোর্ড সকল পক্ষকেই নিতে হবে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকেই।