খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে মধুমতি মডেল টাউনের কাজ, বিচ্ছিন্ন হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে অবৈধ মধুমতি মডেল টাউনের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়নি। এছাড়া খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিদিন চলছে ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ। এনিয়ে এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজামিনে দেখা গেছে, উচ্চ আদালত থেকে অবৈধ ঘোষিত সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারের পাশে অবস্থিত মধুমতি মডেল টাউনে গড়ে তোলা হচ্ছে আবাসিক ভবন। আদালতের রায় অনুযায়ী প্রকল্পের ভরাট করা মাটি অপসারণ করে ৬ মাসের মধ্যে যেখানে জলাভূমিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে এখন চলছে ১০টিরও বেশী বাড়ি নির্মণের কাজ।
কয়েকটিতে বাড়িতে মানুষ বসবাস শুরু করেছে এবং মধুমতি মডেল টাউনের ভিতরে গড়ে উঠেছে অনেক দোকানপাট। এছাড়া রয়েছে অনেক শ্যুাটিং স্পট। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চলছে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকালাপ।
এদিকে গত ১৩ মে রবিবার সাভারের হেমায়েতপুরে এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার ও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়গুলি ক্ষতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মধুমতি টাউনের বিরুদ্ধে।

কিন্তু মন্ত্রীর নির্দেশ কোন কাজেই আসছে না। কড়াকড়ি করা হয়েছে অপরিচিত লোকজনের প্রবেশে ।

প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির বেঞ্চ ২০১২ সালের ৭ আগস্ট মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। ২০১৩ সালের ১২ জুলাই ওই রায়ের পুরোটা প্রকাশিত হয়। রায়ে প্রকল্পটিকে অবৈধ উল্লেখসহ প্লট ক্রেতাদের দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা ফেরত দিতে মধুমতি মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসাথে রায়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ওই এলাকায় অবস্থিত প্রকল্পের জায়গা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভরাট করা মাটি অপসারণ করে ৬ মাসের মধ্যে জলাভূমিগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে আবাসন কোম্পানি মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডকে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডসহ পক্ষগুলোর পৃথক পাঁচটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেয়া হয়।

গত ২০০৩ সালে সাভারের আমিনবাজারে মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্পের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেলা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে ২০০৪ সালে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে স্থগিতাদেশ দেন।

২০০৫ সালের ২৭ জুলাই হাইকোর্টের রায়ে ওই প্রকল্পকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বন্যাপ্রবাহ এলাকাকে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে মেট্রা মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেড ও বেলাসহ অন্যরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে। এসব আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ প্রথমে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুমতি মডেল টাউনের দায়িত্বে থাকা সহকারী সার্ভেয়ার আবুল হোসেন জানান, ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই আমরা এখানে নতুন নতুন বাড়ি করছি আরও এখনো আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে কেউ এখানে আসেনি’।