খুলনার নির্বাচন প্রমাণ করলো এই সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : ‘খুলনা সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবার প্রমাণ হলো বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের যৌথ সভা শেষে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ দিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, খুলনায় অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বর্তমান সরকার ‘নতুন কায়দায় ভোট ডাকাতি’ করেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। ভোটে অনিয়মের অভিযোগে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত ছাড়া বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোট সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলেও দাবি নির্বাচন কমিশনের। খুলনার নির্বাচন প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায়, তারা ফের ভিন্ন মতকে পদদলিত করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। এমনকি সম্প্রতি খুলনায় বর্তমান সরকার এখন নতুন কায়দায়, নতুন রূপে ভোট ডাকাতি শুরু করেছে। এখন সবাই দেখে সবকিছু সুন্দর ও সুষ্ঠু হচ্ছে; কিন্তু সুকৌশলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নিয়ে যাচ্ছে।’  ইসির সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার যোগ্য নয়। তারা একটা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে পারে না। তারা কী করে সুষ্ঠুভাবে জাতীয় নির্বাচন করবে? আমরা কমিশনের পদত্যাগসহ ইসির পুনর্গঠন চাই।’ বিএনপির মহাসচিব দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা। সে জন্য তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকার পরও সরকার তার চিকিৎসার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা বারবার এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করলেও তারা কোনো কর্ণপাত করছে না।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ।