রমজানেও রাজধানীতে গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকটের আশঙ্কা

রাজধানীতে রমজান মাসেও দেখা দিতে পারে গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকট। ফলে সেহরি-ইফতারিতে ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে নগরবাসী। এদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চলতি মাসেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। পাশাপাশি  রমজানে ৬ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখায় স্বাভাবিক থাকবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিকে গ্যাস সরবরাহ। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব উদ্যোগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আবাসিকে গ্যাস সংকট কাটার তেমন সম্ভাবনা নেই। বাসায় গ্যাসের সংযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংকটে রান্নাবান্না বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে অনেক এলাকাবাসীর। যাত্রাবাড়ি, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর কিংবা পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায়ই থাকছে না গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ। পাশাপাশি পুরো শহরেই লোডশেডিং। আর এসব কারণেই আসছে রমজানে গ্যাস-বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবা নিয়ে দুশ্চিন্তার কমতি নেই নগরবাসীর।    ভুক্তভোগী নগরবাসীরা বলেন, আমরা ঠিক মতো বিল পরিশোধ করি। অথচ গ্যাস থাকে না। রান্নাবান্না করতে পারিনা। এই অবস্থা চলতে থাকলে ইফতারি কিভাবে করবো চিন্তায় আছি। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চলতি মাসেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে বিতরণ সক্ষমতাও। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, যেসব লাইনগুলোতে অনেক চাপ সেগুলো বিভাজন করা হয়েছে। আশা করি রমজানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সমস্যা হবে না। অন্যদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, দৈনিক ৬ ঘণ্টা করে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহে। তিতাস গ্যাসের পরিচালক এইচ এম আলী আশরাফ বলেন, রমজান মাসে আমাদের সিস্টেমটা কিছুটা সহনীয় থাকবে এবং ইফতার ও সেহরির সময় গ্যাস সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বাসা বাড়িতে যে গ্যাস সংকট আছে, সে অবস্থার কোনো উন্নতি হবে না সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার কারণে। তবে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তেলভিত্তিক হওয়ায় আবারও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।