গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

 মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেম স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলের গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।  গাজা সীমান্তে সোমবার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলি ও অন্যান্য মারণাস্ত্রের আঘাতে কমপক্ষে ৫৮ জন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী শহীদ হয়েছেন। এছাড়াও, আহত হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি লোক।  ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের কঠোর নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, আমরা আজকের দিনটিতে (সোমবার) মুসলিম বিশ্বের জেরুজালেম হারানোর অনুমতি দেব না।   তিনি বলেন, ‘ইসরাইল একটি প্রতিহিংসাপরায়ণ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। ইসরাইল আজ যা করেছে তা একটি গণহত্যা। আমি এই মানবিক নাটক, গণহত্যা- ইসরাইল বা আমেরিকার যে পক্ষ থেকেই আসুক না কেন এর নিন্দা করি।’  ইইউ’র পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজ ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে শিশুসহ কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।’  তিনি বলেন, ‘ইসরাইলকে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং বল প্রয়োগের অনুপাতের নীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।’  গাজায় সহিংসতা নিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিবৃতি দিয়েছেন।  বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা গাজায় সহিংসতা ও বিপুল প্রাণাহানির প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বিগ্ন।’  গাজায় এই হতাহতের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জার্মানি। সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজার হত্যার জন্য ইসরাইলের নিন্দা করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জীবন্ত গোলাবারুদের ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান দেশটি ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।  বার্লিনের বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা স্ট্রিপের লোকেরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে। তবে, উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেয়া হয়।  মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন রাশিয়া এবং মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা।  মস্কোয় মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে রাশিয়া বেশ কয়েকবার নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে।  তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত চুক্তি একতরফাভাবে কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। জেরুজালেমের অবস্থা নির্ধারণ এই প্রশ্নগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি। এই সমস্যা শুধুমাত্র ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি নেতাদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।’  মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক বলপ্রয়োগের জন্য ইসরাইলের নিন্দা করে বলা হয়, এই পদক্ষেপ ‘গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধির’ কারণ যা বিপজ্জনক পরিণতি হতে পারে।  কাতার সোমবারের সহিংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, গাজা স্ট্রিপের পূর্ব সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘নিয়মানুগ হত্যাযজ্ঞ’ চালাচ্ছে।  কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র লুলাহ আল-খাতার বলেন, তার দেশ ইসরাইলের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে চাপ দেয়ার জন্য সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষমতা আহ্বান করছে।  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ গাজার নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বর্ণনা করেছেন।  জারিফ গাজা স্ট্রিপে এক দশকব্যাপী ইসরাইলি / মিশরীয় নিষেধাজ্ঞাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত কারাগার’ হিসেবে মন্তব্য করেন।  লেবাননের সংসদ সদস্যরা সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের নিন্দা করেন এবং গাজায় ইসরাইলের হামলাকে ‘নিষ্ঠুর ও বর্বর’ হিসেবে মন্তব্য করেন।