বিএনপির মুখে ভারত বিরোধিতা, অন্তরালে অন্যকিছু: হাছান

 দেশে নির্বাচন আসলেই বিএনপি জনসম্মুখে ভারত বিরোধিতায় মেতে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, কিন্তু দেশে কোনো ভারতীয় রাজনীতিবিদ আসলে তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বিএনপি দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেয়। প্রকৃতপক্ষে অন্তরালে তারা ভারতের পক্ষ নেয়।  সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির আবাসিক নেতা আখ্যা দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, রিজভী পরিবারপরিজন ছেড়ে সবসময় পার্টি অফিসে থাকেন। এ কারণে বিএনপির নেতারাই তাকে আবাসিক নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আগে জানতাম তিনি কিছুটা পড়ালেখা জানেন। গতকাল রিজভীর বক্তব্যের কারণে আমার ধারণা পাল্টিয়ে গেলো। যারা মেমরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমইউ) আর চুক্তির পার্থক্য যারা বুঝে না, তাদের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কথা বলা উচিৎ।   আওয়ামী লীগের এ মুখপাত্র বলেন, এ মাসের ৭ কিংবা ৮ তারিখে ভারতের সঙ্গে সরকারের কোনো (এমইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। গতবছর ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালীন কয়েকটি এমইউ স্বাক্ষর হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল সামরিক খাতে সহযোগিতা করা। সহযোগিতার খাতে মাত্র ১ শতাংশ সুদে ৫শ মিলিয়ন লোন দেয়ার এমইউ স্বাক্ষরিত হয় ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে। গত ৭ ও ৮ মে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের সেই এমইউর আলোকে একটা গাইডলাইন নির্ধারিত করা হয়েছিলো। সেটাকে তারা যুক্তি হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে।  সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের এমইউ নতুন কোনো বিষয় নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশ সরকার এই ধরনের এমইউ বিভিন্ন সময় করেছে। ২০০২ সালে বিএনপি চীনের সাথে সামরিক চুক্তি করেছিল। বিভিন্ন দেশের সাথে বিএনপি এ ধরনের এমইউ চুক্তি করেছিলো। এমনকি ভারতের সাথে সীমান্তে সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি করেছিলো। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকার এ ধরনের চুক্তি করেছিলো। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।  সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ।