বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট : ফ্যালকনের শেষ ডিজাইনের প্রথম অভিযান

 যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মহাকাশ কেন্দ্র থেকে গত ১২ মে বাংলাদেশ সময় ভোররাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে যাত্রা ছিল রকেট উৎক্ষেপণ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের নতুন ডিজাইন ‘ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫’ এর প্রথম অভিযান। ফ্যালকন মডেলের রকেটের এটি শেষ ডিজাইন। এরপর ফ্যালকনের আর কোনো নতুন সংস্করণ আসবে না বলে স্পেসএক্স জানিয়েছে।  উৎক্ষেপণের দেড় মিনিট পর ফ্যালকন-৯ ব্লক ৫ ম্যাক্স কিউ অতিক্রম করে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের স্টেজ-১ খুলে যাওয়ার পর স্টেজ-২ কাজ শুরু করে। এরপর পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং আটলান্টিকে ভাসমান ড্রোন শিপে অবতরণ করে।  স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রায় ৩৩ মিনিটের মাথায় বঙ্গবন্ধু-১ পৌঁছে যায় জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে। রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাশূন্যে গা ভাসায় বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট।  পৃথিবীতে ফিরে আসার মাধ্যমে ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ রকেটটি তার প্রথম অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করল। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন, রকেটটি মোট কতটি অভিযান করতে পারবে, নাকি এটিই প্রথম ও শেষ অভিযান?  স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান ডিজাইনার এলন রিভি মাস্ক জানিয়েছেন, ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ এর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ (কোর) পুনরায় তৈরির মাধ্যমে ৩০-৪০টি রকেট আগামী পাঁচ বছরে কমপক্ষে ৩০০টি অভিযানে অংশ নিতে পারবে। অর্থাৎ একেকটি রকেট (কোর) একাধিকবার ব্যবহার করা হবে।  পাঁচ বছর পর ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ এর সবশেষ অভিযানের পর কী হবে? এলন মাস্ক জানান, এরপর এর জায়গা নেবে বিএফআর, যার মাধ্যমে চাঁদ, মঙ্গল ও ‘অবশেষে অন্যান্য গ্রহে’ অভিযান চালানো হবে।  মাস্ক বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ এর পদচারণা কেবল শুরু। বাস্তবতা হলো এর রূপান্তর অচিরেই জনসম্মুখে আসবে।  অনেকের কাছেই প্রশ্ন, ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫ এর প্রতি উৎক্ষেপণে খরচ কেমন পড়বে? বর্তমানে একটি পুনরায় ব্যবহার্য ফ্যালকন ৯ রকেটে খরচ হয় ৫০ মিলিয়ন ডলার। যদি ৩০-৪০টি রকেট দিয়ে ৩০০ অভিযান চালানো হয় তাকে এ খরচ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।  উল্লেখ্য, স্পেসএক্স হলো আমেরিকার একটি বেসরকারি মহাশূন্যযান প্রস্তুতকারক ও উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান। মহাশূনযান উৎক্ষেপণে ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে ২০০২ সালে এলন মাস্ক এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।