আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার ৩ কর্মকর্তা হামলার শিকার

আশুলিয়া ব্যুরো : শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার ৩ কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের হামলায় আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় আশুলিয়ার ইউনিক এলাকার সালেহা সুপার মার্কেটের পিছনে বিল্ডার্স কম্পোজিট নিট ওয়্যার লিমিটেড নামে পোশাক কারখানার ৩ কর্মকর্তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহতরা হলেন, কারখানাটির সুপার ভাইজার শাহাদাত হোসেন, উজ্জল হোসেন ও লাইনচীপ মাসুদ রানা।
এ ব্যাপারে আহতরা জানান, এপ্রিল মাসে কাজে অবহেলা ও শ্রমিকদের মধ্যে কয়েকজনকে মারধরের ঘটনায় নাইমসহ কয়েকজন শ্রমিককে কারখানা থেকে বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাইম ও তার সহযোগিরা কারখানা বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিল। শনিবার দিবাগত রাতে নাইম ও তার সহযোগি ৮/১০ সন্ত্রাসী কারখানাটির প্রধান গেটের সামনে এসে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। কারখানাটি বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয় এবং জোরপূর্বক কারখানা অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় তাদেরকে বাঁধা দিলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় কারখানার কাজ শেষে বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে গতিরোধ করে এবং চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে ২ জন সুপারভাইজার ও একজন লাইনচীপকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। তাদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশিরা এসে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শ্রমিকরা জানান, তাদের কারখানা থেকে বিনা নোটিশে কোন কারন ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়েছে। তাছাড়া তাদের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধ না করে তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর হামলার ঘটনাটি সাজানো বলে তারা আখ্যায়িত করেন। এ ঘটনার সাথে তাদের দূরতম সম্পর্ক নেই। তাদের পাওনাদি থেকে বঞ্চিত ও হয়রানি করার জন্যেই এ নাটক সাজানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে থানার উপ-পরিদর্শক শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের দেখতে পান। হামলাকারিরা সকলে ওই কারখানার শ্রমিক। বেতন না দিয়ে তাদেরকে কারখানা থেকে বরখাস্ত করেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কারখানার স্টাফদের পিটিয়ে আহত করে ওই কারখানার বরখাস্তকৃত বিক্ষুব্দ শ্রমিরা। পরে কারখানার শ্রমিক ভেবে এক বাসের হেলাপারকে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। বাসের হেলপার নিশ্চিত হয়ে  এবং ঘটনার সাথে সে জড়িত না থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।