বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: যে কারণে গর্ব করতে পারেন আপনিও…

১০ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হলো বাংলাদেশ। প্রায় ১৭ বছর আগে মহাকাশে নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। অবশেষে সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আরো অধিকমাত্রায় গতি পেলো। অন্যদিকে, বিশ্ব দরবারে সমাদৃত হলো বাংলাদেশের এ অগ্রগতি। এ প্রাপ্তির অংশীদার দেশের প্রতিটি মানুষ। তাই দেশের নাগরিক হিসেবে এই প্রাপ্তি গর্ব করার মতো।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে একজন বাংলাদেশি হয়ে যে গর্ব আপনিও করতে পারেন-
প্রথমত, বিশ্বের হাতেগোনা ৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি যে দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে এখন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাও মহাকাশে বীরত্ব ঘোষণা করবে। এখন বাংলাদেশ কেবল ভূ-পৃষ্ঠের নির্দিষ্ট সীমানার নয় বরং মহাকাশেরও অংশীদার।
তৃতীয়ত, স্যাটেলাইটের মালিক হওয়ার মাধ্যমে এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে নিগৃহীত বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে আরও সম্মান ও সমীহ পাবে।
চতুর্থত, বিশ্বের ৫৬ দেশের মতো বাংলাদেশও যে অঞ্চলে ফাইবার অপটিকের সুবিধা পৌঁছায়নি সে অঞ্চলকেও ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসতে পারবে। ফলে, পুরো দেশ একযোগে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া পাবে।
পঞ্চমত, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্যোগ কবলিত এলাকায় দুর্গতদের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার মাধ্যমে জনকল্যাণ তরান্বিত হবে। যা পুরো জাতির জন্য কল্যাণকর।
ষষ্ঠত, স্যাটেলাইট নিয়ে বাংলাদেশ আর অন্যদেশের কাছে মুখাপেক্ষী নয় বরং নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপের মতো দেশ বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করবে। এ থেকে ডলার আয়ের সুযোগ উন্মোচিত হওয়ায় দেশের অর্থনীতি আরও ত্বরান্বিত হলো।
সপ্তমত, সীমান্ত এলাকায় বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও সুন্দরবনের মতো দুর্গম এলাকায় উগ্রপন্থীদের দমন ও আইনশৃ্ঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূলে রাখা সহজ হবে। এতে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। যা দেশের প্রতিটি মানুষেরই প্রত্যাশা।