‘পারিবারিক সাইলো’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুর্যোগপ্রবণ ১৯টি জেলার ‘পারিবারিক সাইলো’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে দুর্যোগে নিরাপদ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে মোট পাঁচ লাখ ‘পারিবারিক সাইলো’ বিতরণ করা হবে।

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশে যাতে খাদ্য সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য ঘরে ঘরে আপদকালীন খাদ্যের মজুদ গড়তে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য থাকবে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেন খাদ্য মজুদটা নিশ্চিত থাকে, যাতে কোনো মতেই কখনো আমরা খাদ্য ঘাটতিতে না পড়ি।’ ভিডিও কনফারেন্সে ঝালকাঠি প্রান্তে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের সঞ্চালনায় খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ বদরুল হাসান, স্থানীয় দুই কিষাণী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের আওতায় দেশের দুর্যোগপ্রবণ ১৯ জেলার ৬৩ উপজেলায় পাঁচ লাখ পরিবারের মধ্যে পাঁচ লাখ পারিবারিক সাইলো দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে ঝালকাঠির তিনটি পরিবারের মাধ্যমে সাইলো বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে খাদ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ওমর ফারুকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ নূরুল আলম, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার মোঃ জোবায়েদুর রহমান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৫৬ কেজি চাল ধারণক্ষমতার পারিবারিক এ সাইলোর নির্মাণমূল্য এক হাজার ৩৭৭ টাকা হলেও এটি বিতরণ করা হচ্ছে ৮০ টাকা মূল্যে। বাতাস ও পানিরোধক হওয়ায় দুর্যোগের সময় এই সাইলোর মধ্যে শুকনো খাবার রাখলেও তা নষ্ট হবে না। এ ছাড়া এতে বীজও সংরক্ষণ করা যাবে।

সাইলো উদ্বোধন করতে গিয়ে শেখ হাসিনা একসময় দেশের অনাহারে-অর্ধাহারে থাকা মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তবে সেই অবস্থা কাটিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রথম মেয়াদের সময়ে দেশকে ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ’ করার কথাও তুলে ধরেন। তিনি সারের দাম কমানো ও ভর্তুকি দেওয়া, কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দেওয়া, কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণসহ তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে খাদ্য উৎপাদনপ্রধান অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের সঙ্গে ওই সব অঞ্চলে আধুনিক চালকলসহ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।