খালেদার জামিনের শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের উত্থাপিত যুক্তিতর্কসমূহ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা প্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে রায়ের জন্য আগামী ১৫মে (মঙ্গলবার) দিন নির্ধারণ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ।
এর আগে খালেদার জামিন প্রশ্নে গত মঙ্গলবার শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনের শুনানি শেষে বুধবার পুনরায় শুনানি শুরু হয়। দুই দিনের পূর্ণাঙ্গ শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীরা পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন ধরণের যুক্তিতর্ক আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
প্রথম দিনের আপিল শুনানিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির দাবি জানান। অপরদিকে অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে জামিন প্রার্থনা করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা।
খালেদার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে খালেদার অসুস্থতার কথা বিবেচনায় নেয়ার কথা বললে, দুদকের আইনজীবী আদালতকে জানান, খালেদা জিয়াকে আদালত ইতিমধ্যে তার বয়স, অসুস্থতা, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে ১০ বছরের সাজা কমিয়ে দিয়ে ৫ বছর করেছেন। একই কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো রকম সুবিধা নেওয়ার আইনি অধিকার খালেদা জিয়ার নাই বলে আদালতকে জানান। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এমন কোন নজির নেই বলেও আদালতের সামনে উল্লেখ করেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।
দুদকের আইনজীবী আরো বলেন, একজন আসামিকে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় আদালত মামলা চলাকালীন সময়ে আসামী কতদিন কারাভোগ করেছে তা বিবেচনায় নেয়। যেহেতু খালেদা জিয়া এই দুর্নীতি মামলা চলাকালীন সময়ে একদিনও কারাভোগ করেনি সেহেতু খালেদা জিয়া জামিন পাবার আইনি অধিকার রাখেন না।
দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন ও জয়নুল আবেদীন। খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তারা।
খালেদার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ।