রাজধানী ঢাকা যানজট, দুর্ঘটনা, আবর্জনা ও জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ নগর জীবন!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকাকে নিয়ে দিন দিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের হতাশা। সেই সাথে আতঙ্ক জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনা আর যানজট ও দুর্ঘটনায় অতিষ্ঠ নাগরিক জীবন। কাজের তাগিদে রাজধানীতে মাথা গোজার ঠাঁই খোঁজে ফেরা মানুষ বলছে ঢাকায় থাকা হচ্ছে অনেকটা বাধ্য হয়ে। এতো মানুষের ভীড়ে রাজধানীর সমস্যাগুলো সমাধানের সম্ভাবনাও খুবই কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানী কেন্দ্রীক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার সময় হয়েছে। তা না হলে ভয়াবহ অবস্থায় পড়তে হবে তিলোকত্তমা নগরিকে। রাজধানীতে আনাগোনা প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি মানুষের। যাদের বেশির ভাগই কাজের তাগিদে মাথা গোজার ঠাঁই মিলেছে রাজধানীর ঢাকায়। এতো মানুষের বসবাস তার সাথে নানা সমস্যা আর যানজট লেগেই থাকে যার কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। বর্তমানে এ সমস্যাগুলো যেন নিয়মিত ব্যাপার। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মানুষ। নগরীতে বসবাস করা সাধারণ মানুষ বলছে, বর্তমানে রাজধানীর যে পরিবেশ তাতে করে যাতায়াত সহ ট্রাফিক, সড়ক দুর্ঘটনা ও নানা রকমের সমস্যায় দিশেহারা নগর জীবন।

ট্রাফিক নিয়ম নীতি সমস্যার সাথে সাথে বর্ষায় জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রয, দুর্ঘটনায় মৃত্যু এসব বিষয় নিয়ে প্রায় সময়ই পত্রিকায় প্রকাশ পায় রাজধানীর ঢাকা। তার পরেও বসবাসের অযোগ্য নগরীর তালিকার শুরুতেই থাকে ঢাকার নাম। তারপরেও নানা সমস্যার মোকাবেলা করে জীবন উপভোগের চেষ্টা করে মানুষ।

রাজধানী জুড়ে সারা বছরই লেগে থাকে উন্নয়নের কর্মকা- কিন্তু সমস্যাগুলোর সমাধান কবে নাগরিক মনে এসব প্রশ্ন আসে ঘুরেফিরে।

দিন দিন এই নগরিতে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে। তার চেয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নাগরিক সমস্যা। তাই বিকল্প নগরী গড়ে তোলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

জ্যেষ্ঠ নাগরিক অধ্যাপক জিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, রাজধানীর এখানে ক্ষমতা, শিক্ষা, চাকরি, চিকিৎসা সব কিছু এই ঢাকা শহরে চলে এসেছে। কিন্তু ঢাকার বাইরে নাগরিক জীবনে সেই সুযোগগুলো নেই। ফলে এই ক্ষমতা বিকেন্দ্রিক না ঘটলে এই নগরীতে মানুষ আসবেই। আবার তার সাথে কর্ম সংস্থান রাজধানীর বাইরে তৈরী করতে হবে। ঢাকা শহরের এই নগরীতে কোটি মানুষের বসবাস। শ্রমজীবী থেকে শুরু করে কর্মজীবীসহ সবার কাছে এই শহরটি প্রাণের শহর। কিন্তু শব্দ দূষণ, যানজট আর দুর্ঘটনাসহ নানা করনে এই শহরটি হয়ে উঠছে মানুষের কাছে অপ্রিয়।