রাজধানীতে জোড়া খুনের দায়ে এমপিপুত্র রনির রায় পেছানো হয়েছে

 রাজধানী ঢাকার নিউ ইস্কাটনে গভীর রাতে এলোপাতাড়ি গুলি করে জোড়া খুনের মামলায় এমপিপুত্র বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।  মঙ্গলবার (৮ মে) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল মামুনের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তিতর্কে বিচারক সন্তুষ্ট না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তী তারিখ এখনও জানা যায়নি।  সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার দেওয়ান ফারুকী জানান, মঙ্গলবার রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলাটির ন্যায় বিচারের জন্য যুক্তিতর্কে আরও কিছু বিষয় আদালতের জানা দরকার। তাই তিনি নিজেই আরও কিছু বিষয়ে আইনজীবীদের কাছ থেকে যুক্তিতর্ক শুনবেন। তাই রায়ের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।   আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, রায় তৈরির সময় বিচারক যদি সন্তুষ্ট না হন কিংবা যদি মনে করেন আরও কিছু বিষয়ে জানা প্রয়োজন তবে তিনি রায় পিছিয়ে ফের যুক্তিতর্ক কিংবা মামলার যেকোনো পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে পারেন।  এর আগে ১০ এপ্রিল ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল মামুন যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য (০৮ মে) দিন ধার্য করেন।  চার্জশিটের ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। রনি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পিনু খানের ছেলে।  ২০১৬ সালের ৬ মার্চ রনির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ঢাকার সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার দাস। চার্জশিটে রনিকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।  চার্জশিটের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন, পিস্তলের ২১টি তাজা গুলি, গুলি রাখার চার্জার, একটি রক্তমাখা গুলির অংশ বিশেষ, ভিকটিম আ. হাকিম ও ইয়াকুব আলীর ব্যবহৃত দু’টি লুঙ্গিসহ মোট ১৫টি আলামত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।  চার্জশিটে গাড়ির ড্রাইভার ইমরান ফকির ও তিন বন্ধুসহ ৩৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।  ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে তিন বন্ধুসহ রনি শেলবারে মদ পান করে। রাত সাড়ে ১১টায় শেলবার বন্ধ হয়ে গেলে তারা বার থেকে বাসায় ফেরার পথে নিউ ইস্কাটন রোডে জ্যামে পড়লে রনি তার পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে মুহূর্তে রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেলে তারা গাড়ি চালিয়ে চলে যান।  এ সময় রনির ছোড়া গুলিতে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও জনৈক রিকশাচালক আ. হাকিম মারা যান।  এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৫ এপ্রিল রাতে অজ্ঞাত আসামিদের নামে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।