তবে কি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থতাই সফল আন্দোলন গড়ে না তুলতে পারার মূল কারণ?  

চার বছর পার করে আবারও ঈদুল ফিতরের পর কঠোর কর্মসূচির হুমকি এসেছে বিএনপির পক্ষ থেকে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ দাবি করেছেন, দেশের মানুষ আর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেখতে চায় না। ৭ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে মওদুদ আহমদের এই কথায় সাধারণ মানুষ আর ভরসা পায় না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা।

শুধু আওয়ামী লীগ নয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ নেতাই মনে করছেন, বিএনপি আর কখনোই কঠোর আন্দোলন সংগঠিত করতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বলতে দ্বিধা নেই বিএনপির নেতৃত্ব বর্তমানে সংকটময় অবস্থানে রয়েছে। খালেদা জিয়া জেলে যাবার পর থেকেই দলের মধ্যে চলছে দলের প্রধান হবার লড়াই। এ লড়াইয়ে সামিল আছেন, তারেক রহমান, জোবায়দা রহমান, শর্মিলা রহমান, মির্জা ফখরুল ও মওদুদ আহমেদ। সবাই চায় দলের প্রধান হতে। অপরদিকে মহাসচিব পদ থেকে মির্জা ফখরুলকে অপসারণ করে নতুন মহাসচিব হতে চান রুহুল কবির রিজভী। ফলে নানা মতের বেড়াজালে আক্রান্ত বিএনপি এ মুহূর্তে বড় কোনো আন্দোলন সংগঠিত করার মতো অবস্থানে নেই।

বিএনপির বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে খানিকটা হতাশা থেকে তৃণমূল বিএনপির এক নেতা বলেন, নেত্রী খালেদা জিয়ার কারান্তরীণ হওয়ার তিন মাস পার হতে চললো। অথচ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ তাকে বের করার জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি গ্রহণ করছেন না। অপরদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে তার জীবদ্দশায় জেল হতে মুক্তি দেবে না। এ মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন ছিলো কঠোর আন্দোলন করা। কিন্তু দলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাও সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেই বিএনপি ত্যাগ করছে।

সমস্যায় জর্জরিত বিএনপিকে সংগঠিত করতে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিভাগের এক অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমানে মূলত নেতৃত্ব সংকটে রয়েছে। অনেক নেতাই জানে না তাদের কী করতে হবে। খেয়াল করলে দেখবেন বিএনপির প্রায় প্রতিটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন না। সংগঠনে সময়মতো ভোট না হবার কারণে সবাই নিজেদের নেতা বলে জাহির করে। কেউ কারো নেতৃত্ব মানতে চায় না। যার কারণে বিএনপির আজ এই বেহাল দশা। এসব সমস্যার উপযুক্ত সমাধান ছাড়া বিএনপির কর্যকরী ভূমিকায় পর্দাপন করার সম্ভাবনা খুবই কম।

সামগ্রিক দিক বিবেচনা করলে আন্দোলন করার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও সাংগঠিনক দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা, দলের আগে নিজ ক্ষমতার প্রভাব খাটানোকে বড় করে দেখাই কাল হয়ে পড়েছে বিএনপির জন্য। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিএনপির পরিণতি মুসলিম লীগের মতো হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।