বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান দুদকে না আসায় ১৫ মে আবার তলব

 অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে সোমবার হাজির হননি।  তিনি সকাল ১০টার দিকে দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে লোক মারফত চিঠি পাঠিয়ে সময় আবেদন করেন। সময় মঞ্জুর করে বাচ্চুকে আগামী ১৫ মে দুদক কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে সোমবার (৭ মে) জেরার জন্য তলব করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনি না এসে চিঠি দিয়ে দুই মাসের সময় আবেদন করেছেন। তাকে এক সপ্তাহ সময় দিয়ে ১৫ মে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।   দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।  এর আগে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গতবছরের ৪ ও ৬ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ও ৫ মার্চ- চার দফায় দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় ২৪টি মামলার বিষয়ে বাচ্চু তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে নিজের বক্তব্য পেশ করেন।  বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০১৫ সালের শেষ দিকে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক।  এসব মামলায় বেসিক ব্যাংকের ২৭ কর্মকর্তা, ১১ জরিপকারী এবং ৮১ ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ ১২৯ জনকে আসামি করা হয়।  এরপর বংশাল ও মতিঝিল থানায় আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬২টি মামলা করেছে দুদক।  তবে কোনো মামলাতেই আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি।  প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বাচ্চুকে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়ন হয়। কিন্তু, ২০১৪ সালে ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে চাপের মুখে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।  বাংলাদেশ ব্যাংক তখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ করেছিল, বাচ্চুর নেতৃত্বেই ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।