বজ্রপাতে চার জেলায় ৯ জনের মৃত্যু

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ও দুপুরে এ সব বজ্রপাতের  ঘটনা ঘটে। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে।

শেরপুর সংবাদদাতা জানান, শেরপুরে পৃথকস্থানে সোমবার সকালে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রী ও কৃষিশ্রমিকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন বজ্রপাতে নিহত হয়। সে হালুয়াঘাট উপজেলার পাঘারিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে।

নিহতের পরিবার জানায়, প্রাইভেট পড়ে বাড়িতে ফেরার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় শারমিন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়াও সকাল ১১ টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার হালগড়া গ্রামে আব্দুর রহিম নামে এক কৃষক মাঠে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের আকু শেখের ছেলে। শেরপুর সদর উপজেলার ইউএনও হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সকাল নয়টার দিকে জেলার নকলা উপজেলার মোজারচর গ্রামে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক মাঠ থেকে কাটা ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি বানেশ্বরদী ইউনিয়নের মোজারচর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে। এ সময় বজ্রপাতে এক কৃষি শ্রমিকের শরীর ঝলসে যায়।

অন্যদিকে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বকচর গ্রামে সকাল ১১ টার দিকে কুব্বত আলী নামে এক কৃষক ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক (আরএমও) মো. আনিসুর রহমান তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে একইদিনে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় গ্রামে বজ্রপাতে এক কৃষকের দু’টি গরু মারা গেছে।

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বৃন্দা চিত্তা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে অপর এক শ্রমিক। সোমবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শ্রমিকরা হলেন— উপজেলার কবিরপুর গ্রামের মৃত নাদু বৈষ্ণবের ছেলে অধীর বৈষ্ণব (২৭) ও তেলঘরি গ্রামের বীরেশ্বর বৈষ্ণবের ছেলে বসু বৈষ্ণব (৩২)। আহত শ্রমিক হলেন— তেলঘরি গ্রামের হরিচরণ বৈষ্ণবের ছেলে কৃষ্ণধন বৈষ্ণব (৩২)।

বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জানান, সোমবার সকালে বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় বৃন্দাচিত্তা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের শিকার হন তিন শ্রমিক। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অধীর বৈষ্ণব। গুরুতর আহত অবস্থায় বসু বৈষ্ণবকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আহত কৃষ্ণধন বৈষ্ণবকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খন্দকার জানান, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা : হালুয়াঘাট উপজেলায় সোমবার সকালে বজ্রপাতে শারমিন আক্তার (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শারমিন উপজেলার কৈচাপুর ইউনিয়নের রুহিপাগারিয়া গ্রামের মো. সোহেল মিয়ার মেয়ে। উপজেলার নিচপাড়া এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে।

নিহতের পরিবার জানায়, সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল শারমিন। পথে বাড়ির কাছাকাছি স্থানে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা : শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরে বজ্রপাতে মফিজ মিয়া (২৮) নামে এক মৎসজীবী নিহত হয়েছেন। এ সময় রশীদ মিয়া (৩৬) ও মো. রফিক মিয়া (৬০) নামে দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলার কালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, সোমবার দুপুরে প্রতিদিনের মতো কাজ করার জন্য হাইল হাওরে যান তারা। এ সময় বৃষ্টি হওয়ায় হাওরে একটি নৌকার মধ্যে আশ্রয় নেন তারা। এই সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মহৎজীবি মফিজ মিয়ার মৃত্যু হয় এবং এই ঘটনায় রশীদ মিয়া ও মো. রফিক মিয়া আহত হন। বাকি একজন অক্ষত রয়েছেন। আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। হতাহতরা সবাই উপজেলার বরুনা গ্রামের বাসিন্দা।

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : সদর উপজেলার খলিলপুর গ্রামে বজ্রপাতে আব্দুস ছামাদ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র মারা গেছে। এ সময় একটি হালের বলদেরও মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছামাদ ওই গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় ধুহাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, সকালে ছামাদ গরু নিয়ে বাড়ির নিকটবর্তী জমি চাষ করতে যায়। এ সময় বজ্রপাত হলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে আশপাশের কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হালের দু’টি বলদের একটি মারা গেছে। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. পলাশ রায় বজ্রপাতে ছামাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।