আশুলিয়ায় অপহৃত মা ও ছেলে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় ২৮ দিন অতিবাহিত হলেও পোশাককর্মী মা সালমা আক্তার মিতু (২৫) ও ছেলে তামিম(৪) এর সন্ধান ও উদ্ধার করতে পারেনি থানা পুলিশ। স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র সন্তান হারিয়ে পোশাক শ্রমিক মিজানুর রহমান(২৭) আশুলিয়া থানা গেটে পাগলের মতো সহযোগিতার আশ^াসে ঘুরছেন। এ বছরের ৯ এপ্রিল আশুলিয়ার নরসিংহপুর হা-মীম গ্রুপের ইউনিট-৪ বি, লাইন-৬৭, আইডি নং ১৭৬২৫ কর্মস্থলে সকাল ৮টায় প্রবেশ করে আর বাসায় ফিরেনি। সঙ্গে ওই কারখানার চাইল্ড কেয়ারে ছিল তার শিশুপুত্র তামিম। দুপুরে খাবারের জন্য নরসিংহপুর বুড়িপাড়া এলাকার রুহুল সরকারের ভাড়াকৃত বাসায়ও ফিরেনি। ঘটনার একদিন পর স্বামী মিজানুর রহমান অনেক খোঁজাখুজির পর আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। জিডি নং-৮৩৪।

অপহৃত মিতু বরগুনা সদর থানার লেমুয়া এলাকার লাল মিয়া মৃধার মেয়ে। সে তার স্বামী মিজানুর রহমানের সাথে আশুলিয়ার নরসিংহপুর বুড়িপাড়া এলাকার রুহুল সরকারের বাড়িতে ভাড়া থেকে হা-মীম গ্রুপে চাকুরি করতো। স্বামী মিজানুর রহমান শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট এলাকার আদম আলীর ছেলে। সে আশুলিয়ার ইটখোলা এলাকার হা-মীম গ্রুপের ট্রাউজার লাইনস লিঃ নামে একটি পোশাক কারখানার সুপারভাইজার।

এ ব্যাপারে পোশাক শ্রমিক স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, ২০১১ সালে হা-মীম গ্রুপে চাকুরি করার সুবাধে একই ফ্লোরের অপারেটর মিতু কে পারিবারিক সম্মতি ও উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়। ২০১৪ সালে তাদের পুত্র সন্তান তামিমের জন্ম হয়। অত্যন্ত সুখের সংসার ছিল তাদের। হঠাৎ ঘটনার দিন তিনি অফিসে ডিউটি করাকালীন অবস্থায় দুপুর ২টায় হা-মীম গ্রুপের মিতুর ফ্লোরের কিরন নামে এক লাইনচীপ মোবাইলে তাকে জানান, মিতু ডিউটিতে দুপুরের খাবারের পর কাজে যোগদান করেনি। তাদের চাইল্ড কেয়ারেও তার শিশুপুত্র নেই। এছাড়া মিতুর মোবাইল ০১৭৮৮৩৪৪৫৪৮ নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

মিতুর বান্ধবী পোশাককর্মী রাশেদা কে জিজ্ঞেস করলে সে কোন কিছুই না জানিয়ে হা-মীম গ্রুপের ৬৩ নং লাইনের অপারেটর চাকুরি ছেড়ে অন্য কারখানায় চাকুরি নেন। তার রহস্যজনক আচরণে সন্দেহ হয়। এদিকে ঘটনার ৭/৮দিন পর একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। না দিলে স্ত্রী পুত্র কাউকেই পাওয়া যাবে না। তাদের কিডনি বিক্রি করে টাকা আদায় করা হবে। তিনি আরো বলেন, থানায় জিডি করা সত্ত্বেও থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি।

এদিকে মিতুর খোঁজে তিনি তার শ^শুর বাড়ি বরগুনা জেলার লেমুয়া গিয়েও কোন সন্ধান পাননি। মিতুর পিতা-মাতা ও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন স্থানে সন্ধানে নেমেছেন। ঘটনার প্রায় একমাস হলেও এখন পর্যন্ত মিতু ও তার শিশু পুত্র তামিম এর কোন সন্ধান না পেয়ে চিন্তায় চাকুরি ছেড়ে মিজান পথে পথে ও থানা এলাকায় উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছেন।

জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই সন্ধান পাওয়া যাবে বলেও তিনি জানান।