আশুলিয়ায় বাইপাইল বসুন্ধরা কল্যাণ সমিতির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় বাইপাইল বসুন্ধরায় শনিবার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা কল্যাণ সমিতির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ের সচিব মোঃ নাঈম আহম্মেদ খান, সভাপতিত্ব করেন ক্যাপ্টেন মোঃ আজম খান। সমিতির সভাপতি আশুলিয়া থানা সাবেক যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাদাত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সবেদ আলী ভূঁইয়া, সাংগঠনিক  সম্পাদক মোঃ সাবেদ আলী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাদিম আহমে¥দ খানকে নির্বাচিত হন।

সিংগাইরে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে খাজনার রশিদ দিচ্ছে ভূমি অফিস, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী ধল্লা মৌজাসহ পার্শ্ববর্তী মৌজাগুলোর চর্চা দাগের বন্দোবস্ত জমির অবৈধ দখল অব্যাহত রয়েছে। এসব জমি হস্তান্তরে সকল প্রকার বিধি-নিষেধ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস খাজনার রশিদ দেয়ায় ভূমিহীনদের এসব জমির হাত বদল শুরু হয়েছে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ও সরকারি দলের কতিপয় নেতা হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা । সম্প্রতি সরকারি নিষেধ অমান্য করে ”আমার বাড়ি বিল্ডার্স লিমিটেড” এর বেশ কিছু জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল করে নিলে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারি ব্যবস্থাপক জিয়া উদ্দিন বাদি হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে গত ২৬ এপ্রিল আদালতে মামলা  দায়ের করেন।  আসামীরা হচ্ছে-তাহজিব আলম সিদ্দিকি, ওমর খাঁ,  ওসমান শেখ,  রফিক মিয়া, ফরিদ মিয়া , হনুফা বেগম ও হাসান। প্রধান আসামি তাহজিব আলম সিদ্দিকি  নর্দাণ পাওয়ার প্ল্যাট কোম্পনী ও মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশন  লিমিটেডের কর্ণধার। বাকিরা  ধল্লা এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া নদীর ওই অংশে  ৪৫ বিঘা জমির মালিকানা দাবী করেন পদ্মা গ্রুপ অব কোম্পানীজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার মো: আনোয়ার হোসেন তাদের জমিসহ সরকারি খাস জমি জবর দখল করে পরিবেশ বিধ্বংসী পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের বিরুদ্ধে গত ২৪ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধলেশ্বরী নদী সিকিস্তি প্রায় ১৩ একর জায়গা বালু ভরাট করা হয়েছে। অসহায় হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার ভয়ে টু শব্দ করতে পারছেন না। নাশকতা মামলার আসামি হওয়ার ভয়ে অনেক বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ধল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া নিজের ইউনিয়নের এ রাম রাজত্বের কথা স্বীকার করে  বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। ইতিপূর্বে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে নদী দখল, পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ও ফসলি জমি রক্ষায় তিন শতাধিক লোক স্বাক্ষরিত অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কাছে দায়ের করেও কোন ফল পাননি।  প্রকাশ্যে মাটি  ভরাট ও পাইলিং করে চলছে নর্দান পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পনীর এ কর্মযজ্ঞ । নদীর বেশির ভাগ অংশ ভরাট করায় প্রস্ততা কমে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে ওই অংশে তীব্র স্্েরাতের সৃষ্টি হবে। এতে  রাজধানীর সাথে সিংগাইরের সংযোগ স্থাপনকারি ভাষা শহীদ রফিক সেতুটি হয়ে পড়বে ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি নদীটির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাটিতে থাকা সদ্য নির্মিত ট্যানারি শিল্প নগরটিও  ভাঙ্গনের মুখে পড়তে পারে বলে অনেক আশংকা করছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়,নর্দান পাওয়ার প্ল্যাট কোম্পনীর এ নদী গ্রাসের নেপথ্যে রয়েছে সরকার দলের  স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা। নদীর অন্য স্থানগুলোতে ভরাটের খবর পাওয়া মাত্র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে ভরাট কিংবা শ্রেণী পরিবর্তন বন্ধসহ জেল-জরিমানা করা হয়। অথচ ভাষা শহীদ রফিক সেতুর থেকে মাত্র ২৫০ গজ উত্তরে বিশাল এলাকা জুড়ে নদী গ্রাস করা হলেও  প্রশাসনের সকল স্তর কুলুপ আঁটা মুখে ঝিমুচ্ছেন। আর এ দখলকে বৈধতা দিতে মূল ভূমিকা পালন করছেন ধল্লা ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম। তার অফিস থেকে দেয়া হচ্ছে নদী সিকিস্তি এসব চর্চা দাগের খাজনার রশিদ। যে কারণে এসব জমি গুলো সহজে হাত বদল হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর ১৬৩৪ নং স্মারকে ভূমি মন্ত্রনালয়ের চিঠি অনুযায়ী ওই সব জমি হস্তান্তর দলিল, নামজারি ও খাজনা গ্রহণের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। সেই সাথে বন্দোবস্ত দেওয়া ২৯৭ টি কেস বাতিলের জন্য ভূমি মন্ত্রানালয়ে আবেদন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুন্সি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসার আগেই স্থানীয় ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে খাজনার রশিদ দেয়ায় নতুন করে দলিল সম্পাদন শুরু হয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনে চলছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। দলিলের জন্য ভূমি অফিস দায়ী করছেন উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসকে। অপরদিকে সাবরেজিস্ট্রি অফিস দায়ী করছেন ভূমি অফিসকে। সংশ্লিষ্ট এ দু‘অফিসের রেশারেশিতে সরকারি নির্দেশনার অপমৃত্যু ঘটছে। এ সুযোগে নদী খেকোরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া ।

গত পক্ষকালব্যাপী অনুসন্ধানে সম্প্রতি হস্তান্তর হওয়া জমির একাধিক দলিল ও খাজনার রশিদের ফটোকপি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার  ধল্লা ভূমি অফিসে গেলে রশিদ গুলো তাদের দেয়া নয় বলে দাবী করেন সংশ্লিষ্টরা। ইউনিয়ন উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, খাজনা রশিদের মুল কপি  না দেখলে কিছু বলা যাচ্ছে না। অফিস সংরক্ষিত মুড়ি কপি দেখতে চাইলে তা দেখাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, রশিদের ঠিকানা আমার অফিসের হলেও এগুলো আমার অফিসের নয়। উপজেলা সাবরেজিষ্টার মোঃ লোকমান হোসেন বলেন, ভূমি অফিস থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্র সঠিক হওয়ায় আমি দলিল করে দিয়েছি।

সিংগাইর সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ হামিদুর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে পরে  কথা বলবো বলে লাইন কেটে দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ যুবায়ের বলেন, খাজনার রশিদ ও দলিলের বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। নদীর ভরাটের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে লিখিত ভাবে  জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণ