সাভারে অসুস্থ পোশাক শ্রমিককের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর


ইমদাদুল
হক : সাভারে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাস্তা অবরোধ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় ঘটেছে। এঘটনার পর সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শ্রমিকদের তোপেরমুখে পড়ে। এঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই পোশাক কারখানার প্রায় ১৩টি গাড়ি ও কারখানাটির মূল ফটকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে শ্রমিক অবরোধ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গতকাল শনিবার বিকালে ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে উলাইল বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকের নাম মোঃ

 রাশেদুল (২৫)। সে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার জায়গীর গ্রামের মঞ্জুর মুন্সির ছেলে। নিহত রাশেদুল উলাইল এলাকার কাতলাপুর মহল্লায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থেকে এইচ আর টেক্সটাইল কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতো। তার দেড় বছরের একটি সন্তান রয়েছে বলে জানিয়ে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, সাভার পৌর এলাকায় উলাইল বাসস্ট্যান্ডে এইচ আর টেক্সটাইল  লিমিটেড (প্রাইড গ্রুপ) নামক কারখানার শ্রমিকরা শনিবার সকালে কাজে যোগদান করেন। এসময় কাজ করতে গিয়ে রাশেদুল নামে এক শ্রমিক দুপুরে খাবারের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারখানার নিজস্ব মেডিকেলে রাশেদুলকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার না থাকায় একজন নার্স রাশেদুলকে কিছু ওষুধ দেন। সে ঔষধ খেয়ে মেশিনে গিয়ে কাজ করতে বসলে কিছুক্ষণ পরই তার মাথা ব্যথা ও বমি হতে থাকে। কিন্তু ঔষধ খাওয়ার পরও তার শরীর ঠিক না হওয়ায় তিনি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য কারখানার পিএম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে ছুটি চান। পর্যায়ক্রমে ফ্লোর ইনচার্য জুলহাস এবং এপিএম রুবেলসহ সবার কাছেই ছুটি চেয়ে ব্যর্থ হয়ে কাজে যোগদান করেন। এসময় রাশেদুল কাজ করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরেন। তার মধ্যেও ছুটি না পাওয়ায় কাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বমি করতে করতে অচেতন হয়ে ফ্লোরে পড়ে যান। কারখানার কর্তৃপক্ষ রাশেদুলের অবস্থা গুরুতর বুঝতে পেয়ে শ্রমিকদের দিয়ে রাশেদুলকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাশেদুলের মৃত্যু হয় বলে শ্রমিকরা দাবি করেন। রাশেদুলের মৃত্যু খবরটি কারখানার শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে রাশেদুলের মৃত্যুর ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ ও দোষি ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল বাসস্ট্যান্ড অবরোধ করে রাখে। শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে কারখানা মালিকের ছেলে নাহিদ ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিকভাবে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে তার উপর চড়াও হয় এবং কারখানার সামনে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাংচুর চালায়। এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ টাকার দাবি করেন শ্রমিকরা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করার উদ্যোগে নিলে শ্রমিকরা রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এসময় রাতে সাড়ে আটটারদিকে মালিকপক্ষ নিহত ওই শ্রমিকের পরিবারকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ^াস দিলে শ্রমিকরা রাত সাড়ে আটটারদিকে মহাসড়ক অবরোধ ছেড়ে দেয়। এদিকে সাড়ে পাঁচ ঘন্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ থাকায় মহাসড়কে আটকা পড়ে কয়েক হাজার গাড়ি। এ সময় যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।

এব্যাপারে এইচ আর টেক্সটাইল লিমিটেডের শ্রমিক ওসমান গণি ও আমেনা বেগম বলেন, রাশেদুল বার বার ছুটি চাওয়ার পরও পিএম তাকে ছুটি দেয়নি। একপর্যায়ে ছুটি না পেয়ে কারখানায় ভিতরেই তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পর তাকে অন্য হাসপাতালে নেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তারা আরো বলেন, কারখানার ৫ তলায় কাজ করতো রাশেদুল। সে দুপুরে অসুস্থ্য হয়ে মারা যাওয়ার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কর্তৃপক্ষ কারখানার মূল ফটক বন্ধ করে ভিতরে গান ছেড়ে দেন। এব্যাপারে সাভার ট্রাফিক ইনচার্য মো: আবুল হোসেন বিষয়টি দৈনিক ফুলকিকে বলেন, এক শ্রমিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ হারুন উর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিকরা নগদ ১০ লাখ টাকা দাবি করেছে। কিন্তু মালিকপক্ষ ২ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এছাড়া যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।