শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য থেকে ফেরার পথে গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

রাঙামাটি সংবাদদাতা : রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য থেকে ফেরার পথে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৯ জন।  নিহতরা হলেন, তপনজ্যোতি চাকমা, সুজন চাকমা, সিতুলাল চাকমা, কনক চাকমা ও মোহাম্মদ জসীম।  নানিয়ারচর উপজেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার (৪ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।   এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে রাঙামাটি জেলার নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।  এডভোকেট শক্তিমান চাকমা (৫৫) নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহসভাপতি ছিলেন।  বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে তাকে গুলি করা হয়। এসময় তার সহকারী রুপম চাকমাও (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মোটরসাইকেলযোগে শক্তিমান চাকমা তার উপজেলা পরিষদ চত্বরের সরকারি বাসভবন থেকে বাজারে যান। সেখান থেকে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে মোটরসাইকেল থেকে নামতেই তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।  পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-এমএনলারমা) সহসম্পাদক প্রশান্ত চাকমা জানান, সকালে তিনি অফিসে যাওয়ার পথে ইউপিডিএফ’র লোকজন মোটরসাইকেলে এসে ব্রাশফায়ার করে। এসময় তার সহকারী রুপম চাকমা আহত হয়েছেন।  এ ঘটনায় তিনি ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছেন।  তবে ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র নিরন চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ঘটনার সাথে ইউপিডিএফ’র কোনও সম্পৃক্ততা নেই।  নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, শক্তিমান চাকমা লাশ নানিয়ারচর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটিতে নেয়া হবে।  উল্লেখ্য, শক্তিমান চাকমা ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমা অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।