বিএনপিকে নির্বাচনমুখী না করলেও ক্ষতি দেখছে না আ. লীগ

বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতেই হবে এমন কোনও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে বিএনপি না এলে ক্ষতিও দেখছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তাই দলটিকে জাতীয় নির্বাচনে আনতে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অনড় অবস্থান দলটির। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিকঠাক রাখতে পারলে বরং বিএনপিকে চাপে রাখতে যা যা করণীয় তার সবই করবে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাসই পাওয়া গেছে।  গত বুধবার (২ মে) সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ছিল ‘কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। এটা গণতন্ত্র। কোনও দলের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারি না যে নির্বাচনে আসতেই হবে, না আসলে জেলে নিয়ে যাব।’ তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে দলীয় নেতারা দাবি করছেন, বিএনপিকে ম্যানেজ করে এবার নির্বাচনে আনার কোনও ইচ্ছা আওয়ামী লীগের নেই।  এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান  বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে আওয়ামী লীগের কোনও উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বিএনপিকে তাদের প্রয়োজনেই নির্বাচনে আসতে হবে। আমরা চাই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। কিন্তু শর্ত জুড়ে দিলে এবং ছাড় দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতেই হবে- এমন কোনও চিন্তা নেই।’  দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘কোনও কিছু মেনে নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নাই। বিএনপিকে নিজের প্রয়োজনেই নির্বাচনে আসতে হবে।’  নীতিনির্ধারকরা জানান, ৫ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান, সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করতে পারায় ক্ষমতাসীনদের মনোবল দ্বিগুণ মাত্রায় বেড়েছে। আওয়ামী লীগ শীর্ষ পর্যায় মনে করে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতে পারায় দেশের জনগণ বিএনপিবিহীন নির্বাচনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বিএনপির নেতারা আবারও তাদের ছাড়া নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করবে। তাই বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগ দেখছে ‘আসলে আসবে, না আসলে না আসবে’ দৃষ্টিভঙ্গিতে। বিএনপিকে ‘ম্যানেজ’ করারও প্রয়োজন আওয়ামী লীগের বা সরকারের আছে বলে মনে করে না ক্ষমতাসীনরা।  আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে জনগণ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখন জনগণ মনে করে বিএনপি নির্বাচনে আসলে আসবে, না আসলে না আসবে। ফলে জনগণের ইচ্ছার বাইরে সরকারের কোনও কিছু করার সুযোগ নাই।’  আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, ‘বিএনপি ছাড়াও নির্বাচনে ৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। ৮টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তাই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলো কি হলো না সেই প্রশ্নও উঠবে না।’  এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা বলেন, ২০১৪ সালের আগে বিএনপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করে আসছিল। ফলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তাদের আনতে আওয়ামী লীগের দায় ছিল। এবার আর তাও নেই। নীতিনির্ধারকরা জানান, নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির কোনও দাবিও আমলে নেবে না আওয়ামী লীগ। বরং যতটা সম্ভব চাপেই রাখা হবে আওয়ামী লীগের প্রধান এ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে।