জোরদার আন্দোলন আসছেখালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে কি?

প্রায় তিন মাস হয়ে যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে বন্দি। তার মুক্তি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই কারও কাছে।

বিএনপি থেকে বার বার সরকারকে দোষারোপ করা হলেও এ ব্যাপারে সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট। বিভিন্ন সভা সমাবেশে ক্ষমতাসীন সরকারের এমপি মন্ত্রীরা প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের কোনো হাত নেই। এটা আদালতের ব্যাপার। বরং বিভিন্ন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপিকে আইনগত ভাবে লড়াইয়ের জন্য উপদেশ দেন।তাই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকার ও বিএনপির ভূমিকায় জনগণের মনে নানান প্রশ্ন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন? বা তিনি কি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন?

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ হওয়া বা তার মুক্তি বিলম্বের জন্য জাতীয়তাবাদীপন্থি আইনজীবীদের দিকেই আঙ্গুল তুলছেন বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবীরা।তাদের দাবি, আইনজীবীদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে বেগম জিয়ার কারাবাস।

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের নামে ৩৬টি মামলার মধ্যে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে অবস্থিত অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করা আছে। যুক্তিতর্ক শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে যেকোনো দিন। সে রায়ে কত দিনের সাজা হবে, নাকি খালাস দেওয়া হবে তা আগেই বলা কঠিন।

এছাড়াও কুমিল্লায় বাসে প্রেট্রোল বোমা হামলার অভিযোগে দায়ের করা হত্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। সে মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কি রায় দেবেন, সেটি নিয়ে চিন্তিত তার (খালেদা জিয়ার) আইনজীবীরা।

থেমে নেই নাইকো, গ্যাটকো ও বড় পুকুরিয়ার বিষয়ে দায়ের করা মামলাগুলোও। এগুলোর বিচারকাজও চলছে বকশীবাজারের আদালতে। নতুন করে কোনো মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা, সেটিও জানেন না কেউই। সব মিলিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব মামলায় আইনি লড়াই করে বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্তি পাবেন কিনা সেই প্রশ্নই এখন রাজনীতি জুড়ে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্ত হবেন কিনা জানতে চাইলে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া  বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এক রকম। নির্বাচনের আগের পরিস্থিতি হবে আরেক রকম। তাই পরিস্থিতিই বলে দেবে নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার জামিন হবে কিনা?

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জোরালো আন্দোলন আসছে উল্লেখ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেছেন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।‘ঐক্যবদ্ধ হন, এক সঙ্গে চলেন, জোরদার আন্দোলন আসছে।’ সেই আন্দোলনে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা সামনে থাকবেন বলেও জানান তিনি।

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, ঐক্যবদ্ধ মানুষ যে কত বড় শক্তি সেটি ৬৯ গণঅভ্যুত্থান, ৯০ গণঅভ্যুত্থাণ এগুলো আমাদের ইতিহাসে জ্বল জ্বল করে আছে।তিনি বলেন, সেহেতু শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সবকিছুরই প্রাথমিক পর্যায়। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই আমাদেরকে চুড়ান্ত বিজয়ের রাস্তা দেখাবে এবং আমরা সফলতা পাব। অস্ত্র নিয়ে লড়াই করা খুব সহজ কিন্তু অস্ত্র ছাড়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন যত কঠিনই হোক এটিই বাস্তবমুখী।