রোহিঙ্গা সংকটের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মিয়ানমারকে আহ্বান জাতিসংঘের

জাতিসংঘের নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ক্যারেন পিয়ার্স বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে মিয়ানমারকে। মঙ্গলবার এই সংকটের মূল উদঘাটন করার আহ্বান জানান তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে চারদিনের সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের হয়ে এসব কথা বলেন ক্যারেন পিয়ার্স। তিনি বলেন, ‘দায়ীদের শাস্তি দিতে অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। স্থানীয় হোক কিংবা আন্তর্জাতিক দোষীদের শাস্তি পেতেই হবে।’ এই তদন্ত মিয়ানমার কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে হতে পারে বলেও জানান তিনি।  তবে এই প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের একাগ্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বার্মা হিউমান রাইটস নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা কিয়াও উইন বলেন, ‘দোষীদের দায়ী করা অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিরাপত্তা পরিষদ সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এটি প্রয়োগ করতে অনিচ্ছুক।’ তিনি বলেন, ‘দোষীদের খুঁজে বের না করায় এটি তাদের ভুল বার্তা দিচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে যে অন্যায় করেও পার পাওয়া যাবে।’  গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।  ঘটনা তদন্তে ও রাখাইন পরিদর্শনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল। শনিবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুয়েত থেকে বিমানযোগে সরাসরি বাংলাদেশের কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান ৩০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ইনানীর হোটেল রয়েল টিউলিপে পৌঁছানোর পর হোটেলটির সম্মেলন কক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবসন কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা। শনিবার (২৯ এপ্রিল) সকালে তমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ড পরিদর্শন করেন তারা। ৩০ এপ্রিল (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তারা মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এরপর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং শীর্ষ জেনারেল মিন অং হ্লাং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল।