ধামরাইয়ে ইউপি’র ফটক ভাংচুর করার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ফটক ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ও মোটর চালক লীগের সভাপতি গ্রুপ মুখোমুখি। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সূয়াপুর ইউনিয়নে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা প্রাচীরের ফটক ভেঙেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান সোহরাব দোষারোপ করে সূয়াপুর ই্উনিয়ন শাখার মোটর চালক লীগের সভাপতি আবুল হোসেন ও তার বাহিনীকে। এ নিয়ে বুধবার উভয়পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান এবং একে অপরের উপর হামলা করার প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, গুজবে দুই পক্ষ লোক জমায়েত করছিল। পুলিশি টহলে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকাÑআরিচা মহাসড়কের ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় স্থানীয় এমপি এম এ মালেকের উপস্থিতিতে সুয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান আবুল হোসেন। এরপর কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় মিছিল করে আবুল হোসেন।

উল্লেখ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান সোহরাবের সঙ্গে আবুল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এতে কয়েকবার পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে ও কয়েকটি মামলাও হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল উভয় পক্ষের হামলা ঠেকাতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এঘটনায় কয়েকজন আহত ও বাড়িঘরসহ কয়েকটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

সোহরাব হোসেন বলেন, আমার পরিষদের ফটক ভাংচুর করেছে আবুল হোসেন তার লোকজন। বিভিন্ন ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। এমপি মালেকের ইঙ্গিতে আমাকে এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে আবুল হোসেন বলেন, আমাকে ফেসানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ফটক ভাঙ্গার মিথ্যা অভিযোগ তুলছে সোহরাব চেয়ারম্যান।

চেয়ারম্যান সোহরাব সাবেক এমপি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমদের অনুসারী এবং আবুল হোসেন বর্তমান এমপি এমএ মালেকের অনুসারী। বর্তমান ও সাবেক এমপির মধ্যে চরম বিরোধ চলছে।