সাড়ে ৫ লাখ টাকায় ছাড়া পেলেন বিমানের সেই ক্রু

রিয়াদে ২৫ হাজার রিয়াল (বাংলাদেশি প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা) জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেলেন সৌদি আরবে সোনার বারসহ ধরা পড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্রু তোফায়েল আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার জুতার ভেতর পাঁচটি স্বর্ণের বারসহ ধরা পড়ায় রিয়াদে একদিন জেলখাটার পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তোফায়েলকে।  বিমানের কেবিন ক্রুদের মধ্যে দুর্ধর্ষ চোরাচালানী হিসেবে চিহ্নিত ফ্লাইট স্টুয়ার্ট তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন থেকে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। গত বৃহস্পতিবার বিমানের বিজি-০৪০ ফ্লাইটে রিয়াদ থেকে তার ঢাকায় আসার কথা ছিল। কিন্তু হাতেনাতে সোনাসহ গ্রেফতার হওয়ায় তাকে ছেড়েই বিমানের ফ্লাইট চলে আসে ঢাকায়। একদিন পর শুক্রবার তাকে দেশে পাঠানো হয়।   তাকে এখন সাময়িক বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামীকাল সোমবার অফিস খোলার দিন তাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি ইস্যু করা হবে বলে জানিয়েছে বিমানের প্রশাসন শাখা।  বিমান সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রিয়াদের স্থানীয় সময় দুপুরে উড়োজাহাজে ওঠার আগে নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তোফায়েলের জুতার মধ্যে থেকে পাঁচটি সোনার বার উদ্ধার করেন। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, মূলত শুল্ক ফাঁকি দেয়ার জন্যই তিনি এভাবে সোনার চালানটি জুতার ভেতর রাখেন। তাকে তাৎক্ষণিক ধরে রিয়াদ কারাগারে পাঠানো হয় এবং ফ্লাইটটি পরে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় চলে আসে।  বিমান জানিয়েছে, তোফায়েল আটক হওয়ার পর তার পক্ষে সৌদি প্রবাসী এক প্রভাবশালী বাংলাদেশি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাকরি করলেও তোফায়েল বিমানের চিহ্নিত চোরকারবারি। এর আগেও তোফায়েল নিষিদ্ধ ওষুধসহ ধরা পড়েছিলেন। তখন তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে এক প্রভাবশালী পরিচালকের কারণে আবার তাকে পুনর্বহাল করা হয়।  তোফায়েলের সঙ্গে ফ্লাইট করা তার এক সহকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, তোফায়েলের সঙ্গে বিমানের ফ্লাইট সার্ভিসের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে সে সবার কাছে বলতো। ফ্লাইট সার্ভিসের ওই ব্যক্তি গ্রাহকসেবার দায়িত্ব নেয়ার পর একদিকে যেমন চোরাচালানে জড়িত ক্রুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে বিভাগের সার্বিক কর্মকাণ্ডে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।