বজ্রমেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ, বৃষ্টিপাত থাকবে আরো ৭ দিন

: তীব্র বজ্রমেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। ইতোমধ্যেই বজ্রপাতে সারা দেশে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।এদের মধ্যে সিরাজগঞ্জে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন এবং মাগুরায় ২ জন। এছাড়া নওগাঁ, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সুনামগঞ্জে একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে বৃষ্টিপাত থাকবে আরো ৭ দিন।  মৌসুমে রবিবার (২৯ এপ্রিল) প্রথম আকাশে জমেছে তীব্র বজ্রমেঘ। বেড়েছে বৃষ্টিপাতের প্রবণতার সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া।  আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ওপর দিয়েই বৃষ্টিসহ বয়ে যাচ্ছে কালবৈশাখী ঝড়। তীব্র বজ্রমেঘে ছেয়ে গেছে আকাশ। তাই দেশের জনগণকে সাবধানে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।   আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেভিরভাগ অঞ্চলে তীব্র বজ্রমেঘ জমেছে। যার কারণে শুরু হয়েছে ভারী বর্ষণ। সঙ্গে রয়েছে শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাত। এ পর‌্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে মারা গেছে অন্তত ১২ জন। প্রকৃতির এই বৈরিতা আরও সাতদিন থাকবে। তবে এর মধ্যে বাড়বে বজ্রসহ ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ ও কালবৈশাখী ঝড়।  আবহাওয়াবিদ এটিএম রুহুল কুদ্দস জানান, রোববার (২৯ এপ্রিল) মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অন্য স্থানেও বাড়বে বর্ষণ, বাড়বে কালবৈশাখী ঝড়ও।  স্বাধীনতা উত্তরকালে ইতিহাসে ভয়াবহ ঝড় হয়েছিল ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। সেই ঝড়ে মারা যায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১ কোটি মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েকশ কোটি টাকা। ২৯ এপ্রিলের মতো আর কোনো ঝড় হোক তা আর কারোরই কাম্য নয়। তবে কাকতালীয়ভাবে রোববারও ২৯ এপ্রিল। বাড়ছে দমকা হাওয়ার সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়।  বৃষ্টিতে নাকাল ঢাকাবাসী  সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে রাজধানীর বেশিভাগ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ ঘর বেরিয়েই পড়ে ব্যাপক বিড়ম্বনায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর‌্যন্ত এলাকাভেদে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যে কোনো সময় আবারও নামতে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি। ফলে কাজ শেষে ঘরমুখী মানুষকে আবারও পড়তে হতে পারে বিড়ম্বনায়। আর এই কষ্টটা আগামী সাতদিন ধরেই হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।  আবহাওয়াবিদ ‍রুহুল কুদ্দুস বলেন, আজসহ আগামী সাতদিনই কালবৈশাখী হবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এটার তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। চলতি মৌসুমে ঢাকায় আজ সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।    দুপুর পর‌্যন্ত, যা ভারী বৃষ্টিপাত।  আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ফলে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেটের অধিকাংশ জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিজলি চমকানো বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।  এদিকে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি বেগে কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আর অন্যসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে এক নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।  অন্যদিকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হলেও সিলেট এবং চট্টগ্রামের অঞ্চলে পাহাড় ধসের কোনো আশঙ্কা আপাতত নেই। নেই সামুদ্রিক ঝড়ের কোনো শঙ্কাও।