চাপ কমাতে পিপিপির আওতায় আসছে ১২ প্রকল্প

সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।  সূত্র জানায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কথা চিন্তা করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। শুধু এ প্রকল্পই নয়, আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্তির জন্য পিপিপির আওতায় নিতে ১২টি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে বিভাগটি।  বাজেটে সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পিপিপিতে নজর সরকারের। এতে একদিকে সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে; অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কাজে আসবে।  অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সড়ক পরিবহন খাত। তাই সড়কের এক ডজন বড় প্রকল্প পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।  সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, এখন সময় হয়েছে পিপিপির দিকে নজর দেওয়ার। কেননা সরকারের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে দেশের বেসরকারি খাত অনেক বড় হয়েছে। ধনাঢ্য এবং ব্যবসায়ী শ্রেণির কাছে প্রচুর সম্পদ ও টাকা-পয়সা রয়েছে। কাজেই তারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পৃক্ত হতে পারে, বিনিয়োগ করতে পারে। এতে তাদের ফান্ড বা অর্থের মবিলাইজেশনের জন্য পিপিপি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বহু দেশে পিপিপির মাধ্যমে প্রাইভেট খাতের উদ্যোগে রাস্তাঘাট, সড়ক, জনপথ, ব্রিজ গড়ে উঠেছে, বাংলাদেশেও তা সম্ভব।  জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে মোট বিনিয়োগ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়নের নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগকে।  আরও বলা হয়েছে, পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করতে পিপিপি আইন, প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন এবং পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিমালা-২০১৭ এরই মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।  এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার হিসাব মতে, সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১-এর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে দেশের ভৌত অবকাঠামো ও সেবা সেক্টরে প্রতি বছর বিনিয়োগ প্রয়োজন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি বছর কমপক্ষে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। যেখানে পিপিপির মাধ্যমে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি বছর পিপিপি প্রকল্পে বিনিয়োগ হতে হবে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা অবকাঠামো ও সেবা সেক্টরের মোট বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ। এজন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।