ঢাকার ২০ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অর্ধশতাধিক প্রার্থী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার গুরুত্ব অনেক বেশি। নির্বাচনী হাওয়া বা আন্দোলনের গতি কোন দিকে তা দেখা ও জানার জন্য সারা দেশ তাকিয়ে থাকে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের দিকে।  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এসব আসনে কাদের প্রার্থী করছে তা জানার আগ্রহও প্রবল সারা দেশের মানুষের। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এবং খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার ২০টি আসনে আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।   ঢাকা- ১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নেতা সালমা ইসলাম। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানকে পরাজিত করে সালমা ইসলাম নির্বাচিত হন। এবারও এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়ার কথা ভাবছে। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আবদুল মান্নান খানের পাশাপাশি ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের বেয়াই আবদুল বাতেন ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নাম আলোচনায় আছে।  জানতে চাইলে আবদুল মান্নান খান এ প্রসঙ্গে বলেন, নেত্রীর কাছে সারা দেশের খবর আছে। নেত্রী আমাকে যেভাবে নির্দেশ দেবেন আমি সেভাবেই কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।  ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচর) আসনের বর্তমান এমপি খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। এলাকার মানুষের জন্য তিনি ভালো কাজ করেছেন। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম রাজিব এবং সাবেক আরেক ছাত্রনেতা ফকরুল আলম সমর।  ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনের বর্তমান এমপি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীন আহমেদ এবার এ আসন থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন। বিশেষ করে শাহীন আহমেদ মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের হাই কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।  ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা আবারও নির্বাচন করতে চান। এখানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সানজিদা খানমও নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। এজন্য তিনি এলাকায় কাজ করছেন।  সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এক প্রশ্নের জবাবে  বলেন, আমি আবারও এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। শেখ হাসিনা সরকারের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার উন্নয়ন করছি।  ঢাকা- ৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) আসনের বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়ায় একাদশ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন তিনি। সেই ক্ষেত্রে তার ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল মনোনয়ন পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি হারুন-উর রশীদ মুন্না ও কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর নামও শোনা যাচ্ছে।  ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) আসনে দলীয় প্রার্থী দিতে পারে আওয়ামী লীগ। এখানকার বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নেতা কাজী ফিরোজ রশিদ। এ আসনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সূত্রাপর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাইদ, শহীদ কমিশনার ও আহসান হাবিব মোল্লা মনোনয়ন পেতে এলাকায় কাজ করছেন।  ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার) আসনের বর্তমান এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন তিনি। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলহাজ হাসিবুর রহমান মানিক এ আসনে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন।  ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল) আসনের বর্তমান এমপি বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আগামী নির্বাচনেও এ আসনে মনোনয়ন চান। তবে এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন সম্রাট।  ঢাকা-৯ (মুগদা-সবুজবাগ) আসনে একক প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। এ আসনে আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থী নেই।  ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি) আসনের একক প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি। অত্র এলাকায় বসবাস করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চাইবেন কিনা- জানতে চাইলে মুরাদ বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) যা বলবেন তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’  ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা) আসনেও একক প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ। এখানেও আওয়ামী লীগের আর কারও মনোনয়ন পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই।  ঢাকা-১২ (তেজগাঁও) আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। আগামী সংসদ নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন তিনি। এখানে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।  ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক। তিনি আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হবেন। এ আসন থেকে এবার ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের নাম শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, আমি প্রস্তুত রয়েছি, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা যেভাবে নির্দেশ দেবেন সেভাবেই কাজ করব।  ঢাকা-১৪ (মিরপুর-শাহআলী) আসনের বর্তমান এমপি আসলামুল হক আসলাম। আগামী নির্বাচনের জন্যও তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন যুব মহিলা লীগ উত্তরের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন। তিনি  বলেন, এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজে করে যাচ্ছি। বাকিটা নেত্রী মূল্যায়ন করবেন। আমার বিশ্বাস, নেত্রী দায়িত্ব দিলে তার মান-মর্যাদা রক্ষা করতে পারব।  ঢাকা-১৫ (কাফরুল) আসনের বর্তমান এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার। এবার ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আলহাজ এম সাইফুল্লাহ সাইফুল, ঢাকা- ১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ভাই এখলাছ উদ্দিন মোল্লা, কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৪নং ওয়ার্ড কমিশনার আলহাজ জামাল মোস্তফা মাঠে কাজ করছেন।  এক প্রশ্নের জবাবে কামাল আহমেদ মজুমদার  বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করছি। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী আছে, তাদের পরিবার প্রতি তিনটি ভোট পেলে আমি এক লাখ ২০ হাজার ভোট পাব।  ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনের বর্তমান এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম এ মান্নান কচি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফকির মহিউদ্দিন। তারা এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।  ঢাকা-১৭ (গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট) আসনের বর্তমান এমপি বিএনএফ সভাপতি এস এম আবুল কালাম আজাদ। এ আসনে এবার সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খানের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক গুলশান থানার সভাপতি ওয়াকিল উদ্দিন ও ২০নং ওয়ার্ড কমিশনার নাসির উদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে।  ঢাকা- ১৮ (উত্তরা) আসনের একক প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি বলে দলীয় এক সূত্রে জানা গেছে। এখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থী নেই।  ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনে বর্তমান এমপি ডা. এনামুর রহমার। তার পাশাপাশি এলাকায় কাজ করছেন সাবেক এমপি তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ ও যুবলীগ নেতা ফারুক হাসান তুহিন। এছাড়া ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ কবির এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা দৌলাও এলাকায় কাজ করছেন।   ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের বর্তমান এমপি ধামরাই থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেকের পাশাপাশি সাবেক এমপি বেনজির আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সেলিম খান, যুবলীগ নেতা ও বাইসাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মনোয়ার হোসেন এলাকায় কাজ করছেন মনোনয়নের জন্য।