সম্পদের তথ্য গোপন : গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন মঞ্জুর

 : সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলের মামলায় নারায়ণগঞ্জের প্রাক্তন কাউন্সিলর ও সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. নুর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।  বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।  এর আগে গত ৪ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।  মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নুর হোসেনের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের উৎসবিহীন জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করে দুদক। ১২ ডিসেম্বর কাশিমপুরের কারাগারে থাকা নুর হোসেন সম্পদ বিবরণী নোটিশ দাখিল করেন। নুর হোসেন তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের  তথ্য দেন। নুর হোসেনের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করে দুদক দেখতে পায়, নুর হোসেন ২ কোটি ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৪ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্থাৎ মোট ৪ কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৮৬১ টাকার সম্পদ তার রয়েছে। ফলে তিনি ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯২ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন।  আরো জানা যায়, নুর হোসেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি ১৯৮৯-৯০ করবর্ষ থেকে আয়কর দিয়ে আসছেন। কিন্তু তিনি ২০১৩-১৪ করবর্ষের পর আর কোনো আয়কর রিটার্ন আয়কর বিভাগে জমা দেননি। তিনি ২০১৩-১৪ করবর্ষ পর্যন্ত মোট পরিসম্পদ ১ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬ টাকা আয়কর বিভাগে প্রদর্শন করেন যা তার সর্বমোট আয় হিসেবে গণ্য হয়। দুদকের অনুসন্ধানে ৪ কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৮৬১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর  সম্পদ অর্জন করেন বলে তথ্য পায় দুদক। ফলে তার ৩ কোটি ৩০ লাখ ৮৩ হাজার  ৮০৫ টাকার অসাধু উপায়ে অর্জিত সম্পদ অর্জনের উৎস পাওয়া যায়নি, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।  ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯২ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত সম্পদ বিবরণী দাখিল করায় এবং ৩ কোটি ৩০ লাখ ৮৩ হাজার ৮০৫ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা নিজে অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করে দুদক।  ওই অভিযোগে ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলী নুর হোসেনের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।