রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি ২৮ এপ্রিল  

এক্সিম ব্যাংক জানিয়েছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে ঋণ চুক্তি হতে যাচ্ছে ২৮ এপ্রিল। চীনের প্রেসিডেন্টের সম্মতি পাওয়ার পর চূড়ান্ত চিঠি পাঠাবে সংস্থাটি। এদিকে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব জাহিদুল হক বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর চায়না এক্সিম ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে  বাংলাদেশ ঋণচুক্তির জন্য প্রস্তুত’। এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তারিখ জানানো হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আমাদের ঋণের টাকাটা তাড়াতাড়ি প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমাদের চাওয়া অনুযায়ী যদি ঢাকায় চুক্তি করতে গিয়ে আবারও ঋণচুক্তি পিছিয়ে যায় সেটি কাম্য নয়। এ প্রকল্পে দ্রুত অর্থায়নের জন্য আমাদের অনেক কিছুই করতে হচ্ছে’।

২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময়ই পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে অর্থায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এরপর নানা কারণে অর্থ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয় এবং চুক্তি স্বাক্ষর বিলম্বিত হতে থাকে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের হস্তক্ষেপে সুদ ও শর্তসংক্রান্ত জটিলতা কেটে যায়। গত নভেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। সেটি না হওয়ায়  ইআরডি ডিসেম্বরে হবে বলে আশা ব্যাক্ত করেন। তখন চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের স্টেট কাউন্সিলের অনুমোদনের পর চীনের প্রেসিডেন্টের অনুমোদন লাগবে। এরপর জানুয়ারি,  ফেব্রুয়ারি  এবং মার্চে চীনা এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক ও চিঠি চালাচালি চলে।

অবশেষে গত ফেব্রুয়ারিতে চীনা স্টেট কাউন্সিল ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পাওয়া যায়। এখন চীনের প্রেসিডেন্টের সম্মতির অপেক্ষা। এরপর এক্সিম ব্যাঙ্ক ঋণচুক্তির জন্য চূড়ান্ত তারিখ পাঠাবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু শর্ত এবং সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালে প্রকল্পটি সমাপ্ত করা সম্ভব।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- ভূমি অধিগ্রহণ, ১৬৯ কিলোমিটার মেইন লাইন নির্মাণ, ৪৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার লুপ ও সাইডিং ও তিন কিলোমিটার ডাবল লাইনসহ মোট ২১৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেল ট্র্যাক নির্মাণ, ২৩ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, এক দশমিক ৯৮ কিলোমিটার র‌্যাম্পস, ৬৬টি মেজর ব্রিজ, ২৪৪টি মাইনর ব্রিজ ও কালভার্ট, একটি হাইওয়ে ওভারপাস, ২৯টি লেভেলক্রসিং, ৪০টি আন্ডারপাস, ১৪টি নতুন স্টেশন বিল্ডিং, ছয়টি বিদ্যমান স্টেশনের উন্নয়ন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, ২০টি স্টেশনে টেলিযোগাযোগসহ কম্পিউটার বেজড রেলওয়ে ইন্টারলক সিস্টেম সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী গাড়ি সংগ্রহ করা হবে।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হবে এবং সেই সাথে দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে।