আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব

: প্রতিবন্ধকতাহীন ধারাবাহিক উন্নয়নের দীপ্ত অঙ্গিকারে অবিচল বঙ্গবন্ধু কন্যা ও দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই প্রচেষ্টায় উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। আওয়ামী লীগ সরকারের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে দেশের বহুমাত্রিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্যতম। যা জাতীয় ক্ষেত্রে আঞ্চলিক যোগাযোগকে সহজ করার পাশাপাশি জনজীবনে বয়ে আনবে প্রশান্তি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চার লেন হাইওয়ে, ব্রিজ/কালভার্ট, যোগাযোগ ব্যবস্থাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মেগাপ্রজেক্ট, নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ ও পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির অগ্রসরতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ২০০৯ সালে চার লেন হাইওয়ে ছিলো মাত্র ৭৩.৪ কিলোমিটার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী কেবল ২০১৬ সাল পর্যন্ত তা ৩৬৮.৬২ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।

ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রের বর্তমান সরকারের আগ্রগতি প্রশংসার দাবি রাখে। ২০০৯ সালে যা ছিলো মাত্র ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯১৯ মিটার। ২০১৬ সালে তা উন্নীত হয়েছে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৭০৭ মিটারে।

ন্যাশনাল হাইওয়ের ক্ষেত্রে ২০০৯ সালে যা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪৭৭ কিলোমিটার, ২০১৬ সালে হয়েছে ৩ হাজার ৮১৩ কিলোমিটার।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বেশ কয়েকটি মেগাপ্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প। ২০১৯ সালে এ প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রতি ঘন্টায় ৬০ হাজারের অধিক যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে ৪৭.৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, এছাড়া উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগের উন্নতি সাধনে ঢাকা- আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হচ্ছে। যাতে ব্যয় হবে ১.৬৭ বিলিয়ন ডলার।

মেগাপ্রজেক্টের মধ্যে জাতীয় ক্ষেত্রের পাশাপাশি এশিয়া মহাদেশের সাথে আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নত করতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ হচ্ছে। যা বাংলাদেশে এই প্রথম। এছাড়া ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লেন করা হচ্ছে।

রেল যোগাযোগ আরও ফলপ্রসূ ও সুদূরপ্রসারী করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস রেলওয়ের উচ্চগতি সম্পন্ন রেল সংযোগ, ঢাকা-কক্সবাজার রেলওয়ে সংযোগেও মেগাপ্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে। এর ফলে সড়কে যানবাহনের উপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে যাবে।

বর্তমান সরকারের আমলে সর্ববৃহৎ মেগাপ্রজেক্ট পদ্মা বহুমুখী সেতু। পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে দক্ষিণাঞ্চলের ৩০ মিলিয়ন মানুষের জীবনযাত্রায় আসবে আমূল পরিবর্তন। এটি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সবচেয়ে বড় প্রকল্প যাতে খরচ হবে ৩.৬০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালেই পুরো পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা যাবে।

নানাবিধ উন্নয়নে দেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে। যা অব্যাহত রাখতে সর্বদা সচেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।