২০১৭ সালে ১৩৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাংলাদেশের: বিশ্বব্যাংক

ফুলকি ডেস্ক : সোমবার বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের হিসাবে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের স্থান নবম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়। ৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা ভারত ও ১৯ হাজার ৭০ কোটি ডলার আয় করা পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অভিবাসন ও উন্নয়ন শীর্ষক সর্বশেষ অবহিতকরণ বৈঠকে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ২০১৬ সালে ১১.৫ শতাংশ পতনের পর থেকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস সৌদি আরব, আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত ও মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আর্জিত হতে থাকায় দেশটিতে এখন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’ অন্যদিকে শ্রীলংকার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ ২০১৭ সালে কমেছে শূন্য দশমিক নয় শতাংশ।

২০১৭ মেয়াদে নেপালের আয় করা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ৬৯০ কোটি ডলার যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে—২৮.৯ শতাংশ। আর ২০১৭ সালে বাংলাদেশের আয় করা বৈদেশিক মুদ্রা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ৫.৪ শতাংশ ছিল। অভিবাসন ও উন্নয়ন শীর্ষক অবহিতকরণ সভায় মন্তব্য করা হয়েছে, বাংলাদেশ ২০১৭ সালে সৌদি আরবের শ্রমবাজার জাতীয়করণের ধাক্কা এড়িয়ে যেতে পারত যদি তার আগেই হয়ে যাওয়া চুক্তি অনুযায়ী ৪ লাখ শ্রমিক দেশটি পাঠিয়ে দিত। ওই চুক্তির আওতায় প্রেরিতব্য শ্রমশক্তির অর্ধেকরই নারী শ্রমিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে শ্রমশক্তি রফতানি কার্যক্রমের গতি মন্থর হয়ে পড়ে বাংলাদেশে। মাত্র ৫৯,৩৮২ জন শ্রমিককে সৌদি আরব পাঠানো হয়েছিল ওই মাসে। অথচ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮৫,০৩৮ জনকে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষ শ্রমশক্তি রফতানি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ১২টি দেশে সমন্বয়কারী পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমন্বয়কারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে বাংলাদেশের ‘ব্যুরো অফ ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট এন্ড ট্রেনিং’ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ‘ইউনিভার্সাল মেডিকেলের’ সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে।