ফখরুল তো বাম রাজনীতি করতেন, মনে হয় আল্লাহ-খোদায় বিশ্বাস কম: কাদের

 ‘আমি আমার বক্তব্যে অনড়। মির্জা ফখরুল সাহেব তো বাম রাজনীতি করতেন; মনে হয় আল্লাহ-খোদায় বিশ্বাস কম। হায়াৎ-মওত আল্লাহর হাতে। এই যে আমি বসে আছি এখান থেকে উঠে দরজা পর্যন্ত যেতে যেতেও তো আমার মৃত্যু হতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  শনিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভারত এবং দেশটির সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। আগেও করে নাই।   এর আগে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ঘিরে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জেরে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘বাঁচা-মরা আল্লাহর হাতে। ডাক্তার চিকিৎসা করছেন। এখন সরকার কী করতে পারে?’ এর পর ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যে শঙ্কা প্রকাশ করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপি নেতারা।  ভারত সফর প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীকাল রবিবার (২২ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফরে যাবে। দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত করতেই এ সফর। এ সফরের সাথে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। এই সফরে শুধু বায়লেটেরাল টকস হবে। খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সফরের পর এর ফলাফল বুঝা যাবে। এখনই বলতে পারবো না।’  ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের পাল্টা প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এই সফর নিয়ে কথা উঠছে কেন? কদিন আগেও তো ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল চীন সফরে গিয়েছিল। চীনকে কি তাহলে আপনারা ছোট করে দেখছেন?’  ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সফরে পার্টি টু পার্টি আলোচনা হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে আলোচনা আছে। খুব শর্ট সফর কিন্তু গুরুত্ববহ। কর্মসূচির মধ্যে আছে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা অর্পণ ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে ভোজে অংশগ্রহণ। তারপরের দিন ২৩ এপ্রিল খুব ব্যস্ততা থাকবে। ওইদিন বিজেপির সঙ্গে আলোচনা হবে। ২৪ তারিখ দেশের উদ্দেশে ভারত ত্যাগ করবো।’  মন্ত্রী বলেন, ‘ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক ৭১ সাল থেকে। রক্তের রাখিবন্ধন। যেকোনও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উভয়েরই স্বার্থ আছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না ভারতের সাথে আমাদের সীমান্ত অনেক বড়। তাদের সাথে যুদ্ধ করে তো সমাধান হবে না। আলাপ আলোচনা করেই সমাধান করতে হবে।’  ৭৪’র ল্যান্ড বাউন্ডারি চুক্তি শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে বাস্তবায়ন হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ভিজিটটা যেহেতু খুব ছোট তারপরও আমাদের সব ধরনের চেষ্টা থাকবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই তো তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারবে না। কারণ পশ্চিমবঙ্গের একটা প্রভাব আছে তাতে।’  ভারত সফরে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আছেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শ্রী পিযুষ কান্তি বর্মন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুস সোবহান মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড শামীম আহমেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুস সবুর, তানোর সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সুজিত রায় নন্দী, কোথা চাঁদ ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম কবির রাব্বানী চয়ন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ড. রোকেয়া সুলতানা।