রানা প্লাজার সামনে ‘স্মৃতি কাঁথা ও কথা’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে আলোচিত ধসে পড়া রানা প্লাজার ৫ বছর পূর্তিকে সামনে রখে মৃতদের স্মরণ করো, জীবিতদের জন্য লড়াই করো এই স্লোগানকে ধারণ করে ‘স্মৃতি কাঁথা ও কথা’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে স্মৃতি কাঁথা ও কথা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল পোশাক শিল্পের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ‘রানা প্লাজার ধসে ১১৭৫ জনের বেশী শ্রমিক প্রাণ হারান। নিহতদের নিয়ে এই স্মৃতি কাথা প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হাজারো প্রাণ-স্বপ্ন হত্যার কথা যাতে আমরা ভুলে না যাই। নিখোঁজ সমাপ্তি রানীর মা আহত শ্রমিক র”না রানী দাস প্রদশর্নীটি উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গামের্ন্ট শ্রমিক সংহতির প্রধান তাসলিমা আখতার, নিহত শ্রমিক রাব্বীর মা রাহেলা খাতুন, নিখোঁজ শ্রমিক শান্তার বোন সেলিনা আক্তার, বিউটির স্বামী আলম মাদবর, আহত শ্রমিক র”পালী ও সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুর ইসলাম শামা ও দপ্তর সম্পাদক মুসা কলিমুল্লাহ।
প্রদর্শনীটি পরিকল্পনা ও কিউরেটিং করেছেন যৌথভাবে বাংলাদেশ গামের্ন্ট শ্রমিক সংহতির প্রধান ও আলোকচিত্রী তাসলিমা আক্তার এবং আমেরিকান এ্যাক্টিভিস্ট, ইতিহাসবিদ প্রবীন কাঁথা শিল্পী রবিন বারসন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, ৫ বছরেও শাস্তি হয়নি দোষীদের। অন্যদিকে সস্তা মজুর হিসেবে বর্তমান বাজার দরে পোশাক শ্রমিকদের বেহাল জীবন। শ্রমিকরা দাবি তুলেছে বেসিক মজুরী ১০ থেকে ১৬ হাজার টাকা। এই দাবীর সাথে একাত্ম হয়ে ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা আওয়াজ তুলেছি ‘মৃতদের স্বরণ করো, জীবিতদের জন্য লড়াই করো’।
শ্রমিকদের ছবি কাপড়ে বসিয়ে বাংলাদেশের ঐতির্য্য অনুযায়ী নানা অঞ্চলের কাঁথা সেলাই ফোঁড় দিয়ে নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্যরাই তৈরী করেছে ‘স্মৃকি কাঁথা’। একই সাথে ছোট ছোট র”মালে লেখেছেন নিজেদের মনের নানা কথা। এসব কথায় লুকিয়ে আছে হারানো আপনজনের আকুতি।  কাঁথা সেলাইয়ে নিহত, নিখোঁজ ১৫ পরিবারের নারী সদস্যরা এই কাজে অংশ নিয়েছেন।