বিএনপি’র নেতাদের বক্তব্যে অনৈক্য দৃশ্যমান

 বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নেবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে কিছুটা অনৈক্য লক্ষ করা গেছে। বিএনপি’র তরুণ নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, দলের চেয়ারপারসনকে ছাড়া তারা কোনো নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু সিনিয়র নেতারা দুপথই খোলা রাখার চেষ্টা করছেন এবং সে পথেই হাঁটছেন। বিএনপির শরিকরা নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা নেত্রীর (খালেদা জিয়া) কারামুক্তি ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। অন্যদিকে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় খুলনা এবং গাজীপুর সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। বিএনপি নেতারা এখনো বলছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। তবে খালেদা জিয়া যেখানেই থাকুক (কারাগারে বা বাইরে) গোপনে বিএনপির একটি পক্ষ নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। কিন্তু তোপের মুখে পড়ার ভয়ে প্রকাশ্যে এ সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে রাজি নন। সোমবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এ বছরের শেষে দেশে একটি নির্বাচন হবে। আর সেই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব। তার আগে আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কারাগারে থাকা আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মুক্ত করে আনব। তিনি বলেন, তবে আমরা নির্বাচনকে বাদ দিয়ে শুধু আন্দোলনে যেতে চাই না। নির্বাচন প্রস্তুতি ও আন্দোলন একসঙ্গেই চলবে। বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আচরণ ও নির্যাতনের কারণে আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা আর পেছনে যেতে পারব না। আমরা পেছনে গেলে আওয়ামী লীগ সামনের দিকে আসবে। আর আমরা সামনের দিকে এলে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমরা সেই সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিকে এড়িয়ে যেতে চাই। তাই আমরা বারবার আন্দোলন ও ভোটের কথা বলি। গত ১৭ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানে অভ্যন্তরীণ অনৈক্যই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ওই অনুষ্ঠানে বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে যদি আগামী নির্বাচনে যাই, তাহলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি গেলাম না কেন? বিগত বছরগুলোয় যে নেতাকর্মীরা এত নির্যাতন সহ্য করলেন, তাদের কি জবাব দেব আমরা? বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলে সকাল-বিকাল বুলি আওড়াচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। জেলে থাকাবস্থায় শুনেছি, এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি গ্রুপ আমাকে ম্যানেজ করার জন্য জেলেও যাবেন। গয়েশ্বর আরও বলেন, আমাদের নেত্রীকে পাশ কাটিয়ে আজকে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। এতে আমাদের অনেকেই বাতাস দিচ্ছেন। কিন্তু, এতে কোনো কাজ হবে না। আমরা খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যেতে চাই। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রশ্নই আসে না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নেত্রীর মুক্তি। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নির্বাচনে যাব কি না। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, নেত্রীকে ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ দূরে থাক, আমরা নির্বাচনী কোনো তৎপরতাও চালাব না। নেত্রীকে মুক্ত করেই আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, অবশ্যই সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ। বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত এবং গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়ার জেল হওয়ার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলেও বিএনপি ও ২০ দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, সরকার ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে। জনতার জাগরণ সৃষ্টি হলে অসমতল সমতল হয়ে যাবে। জনজোয়ারে কোনো ষড়যন্ত্র টিকে থাকে না। আর ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি গণমাধ্যমকে বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পথ কিংবা সিঁড়ি হচ্ছে নির্বাচন। আর প্রতিটি রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য থাকে ক্ষমতায় যাওয়া। সেই তাগিদ থেকেই প্রতিটি রাজনৈতিক দলই চাইবে কীভাবে ক্ষমতায় যেতে পারবে। সেই অর্থে নির্বাচনে যে কোনো খেলা আসতে পারে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে খালেদা জিয়ার আহ্বানে নির্বাচনের মঞ্চে দেখা যায়নি জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাকে দেখা গেছে। এখন তিনি মন্ত্রীও বটে।