একাদশ নির্বাচন দ্রুত এগোচ্ছে পদ্মা সেতুর কাজ

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। সর্বশেষ মার্চ পর্যন্ত সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৩ শতাংশ।  সূত্র জানায়, নির্বাচনের বছর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণ দ্রুত সময়ে শেষ করতে কাজ চলছে পুরোদমে। সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষে কর্মযজ্ঞ চলছে মূল সেতুতে। এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর প্রায় অর্ধ কিলোমিটার অংশের অবকাঠামো। তবে নদীশাসনে ধীরগতি সেতুটির কাজের গতি কিছুটা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। সম্প্রতি সেতু বিভাগের চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন সভায় এ তথ্য উঠে এসেছে।  সভার কার্যপত্রে দেখা যায়, চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত সভায় সেতুটির সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বলা হয়, প্রকল্পের বর্তমান গতি সন্তোষজনক। সভায় প্রকল্পটির বিষয়ে পরিচালক জানান, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫৩ শতাংশ।  মূল সেতুর পাইল ড্রাইভিং চলমান রয়েছে। অঙ্গভিত্তিক কাজের মধ্যে মূল সেতুর ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫৯ শতাংশ এবং নদীশাসন কাজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া জাজিরা সংযোগ সড়কের ক্রমপুঞ্জীভূত ভৌত অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে নদীশাসন কাজের জন্য অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব এখনও অনুমোদিত না হওয়ায় কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য চলতি অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নাও হতে পারে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক। সভায় প্রকল্পের মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা চালাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।  প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে যথাসম্ভব চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে। নদীশাসনসহ কিছু কাজ পিছিয়ে রয়েছে। তবে কাজ সমাপ্ত করতে সবাই সচেষ্ট রয়েছেন।  এদিকে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের মূল এডিপি বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৫২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তা থেকে ৮২১ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে ৪ হাজার ৭০৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বছর শেষে এর পুরোটা খরচ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুরু থেকে প্রায় প্রতি বছরই এডিপিতে বড় বড় বরাদ্দ দেওয়া হলেও আরএডিপিতে তা কমানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সেতুর কাজ শুরু পর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকার মত। এ অবস্থায় আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আরও ৬ হাজার ২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দেওয়া হতে পারে এ প্রকল্পে।  পদ্মা সেতু নির্মিত হলে তা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৫টি জেলার প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেতুটি জাতীয় জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ ভাগ যোগ করবে এবং প্রতি বছর ০.৮৪ শতাংশ দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে। সেতুর কাজ শুরু করতে বেশ সময়ক্ষেপণ হয়েছে। তাই অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় যত দ্রুত কাজ শেষ হবে, তত দ্রুতই এর সুফল পাবে জনগণ।  প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিরামহীনভাবে চলেছে সেতুর কাজ। প্রকল্প এলাকার দুই পারে দেশি-বিদেশি এবং সামরিক-বেসামরিক মিলে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। জার্মানির তৈরি ১ হাজার ৯০০ ও ২ হাজার ৪০০ কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামারের পাশাপাশি সাড়ে ৩ হাজার কিলোজুল ক্ষমতার বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামার পাইলিং কাজে এনেছে নতুন গতি। এ অবস্থায় গত বছর সেপ্টেম্বরে জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৩ হাজার ২০০ টন ওজনের প্রথম স্প্যানটি স্থাপনের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় স্বপ্নের এ সেতুর। ক্রমান্বয়ে ৩৮ ও ৩৯ এবং ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারে বসে আরও দুটি স্প্যান। চার পিলারের ওপর তিনটি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে সেতুটির ৪৫০ মিটার অংশ কাজের জানান দিচ্ছে। মূল সেতুতে মোট ৪২টি পিলারের ওপর এ রকম ৪১টি স্প্যান বসানো হবে।