১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে মানবিক ভূমিকা পালনের জন্য টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিনটি ২০১৮ সালের “বিশ্বের শীর্ষ ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের” তালিকা প্রকাশ করে।

টাইম ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির নাম ও সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্থান দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নেতৃত্বের ক্যাটাগরিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি এই তালিকায় স্থান পাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখেন, ৯০ এর দশকে সর্বপ্রথম শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তিনি বাংলাদেশে সামরিক শাসন বন্ধের দাবিতে জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সর্বশেষ আমাদের দেখা হয় ২০০৮ সালে, যখন তিনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন আরেক সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এর পরের বছর নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

দেখুন টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা

প্রধানমন্ত্রীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উল্লেখ করে তিনি আরো লেখেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া তার পিতার লেগ্যাসি বহনকারী হাসিনা কখনই লড়াইকে ভয় পাননি। কাজেই, গত আগস্ট মাসে যখন হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করলো, তখন তিনি এই মানবিক চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করলেন। দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অতীতে শরণার্থীদের বিরাট ঢলকে স্বাগত জানায়নি। কিন্তু তিনি জাতিগত নিধনের শিকার হওয়া বিপর্যস্ত ভুক্তোভোগীদের ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার, কিন্তু তিনি মানবাধিকার নিয়ে বাজেভাবে হোঁচট খাচ্ছেন। তার সরকারের শাসনের অধীনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বলপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেছে। এ সরকার সমালোচনা বা ভিন্ন মতাদর্শকে সমর্থন করে না। ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, সেই শেখ হাসিনাকে এই কর্তৃত্বপরায়নতার দিকে যাওয়ার প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। মিয়ানমার ও অন্যদের জন্য তাকে উদাহরণ হওয়া প্রয়োজন। এটা দেখানো প্রয়োজন যে, গণতন্ত্র ভিন্নমতকে ও বৈচিত্রকে আপন করে নেয়।

এর আগে ২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ দশ জন নারীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫ সালে বিশ্বের অন্যতম নেত্রী হিসাবে মনোনীত করেন বিজনেস ম্যাগাজিন ফরচুন। ২০১৬ সালে পুনরায় বিশ্বের অন্যতম নেতা হিসাবে মনোনীত করেন ম্যাগাজিনটি।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৪ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। গত বছর ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে বাঁচতে আরো সোয়া ৬ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে আসছে।