রোহিঙ্গা শিবিরের অবস্থা ‘খুব খারাপ’: মায়ানমার মন্ত্রী

মায়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মায়াত এই সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। এরপর বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যেসব শরণার্থী শিবিরে আছেন সেগুলোর অবস্থা ‘খুবই খারাপ’।  তিনি বলেন, ‘দেখাতেই বিশ্বাস। আমরা দেখেছি শিবিরগুলোতে তারা খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করা, কারণ শিগগিরই বর্ষাকাল শুরু হচ্ছে এবং যারা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে তাদের নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’  মায়ানমারের এই মন্ত্রী বলেন, যারা ফিরে আসবেন তারা প্রথমে ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ বা এনভিসি-র জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর যাচাই প্রক্রিয়া শেষে যারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁরা পাঁচ মাসের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।   এদিকে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় প্রথম ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে শিবিবের মধ্যে চলাচলের রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে ত্রাণ কর্মীরা জানিয়েছেন।  একটি ত্রাণ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রেগিনা কাট্রাম্বোন জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএকে বলেন, পাহাড়ের কোলে গাছ কেটে তৈরি করা শিবিরে বাস করছেন রোহিঙ্গারা। অতিবৃষ্টিতে সেগুলো ভেঙে পড়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া শিবির এলাকায় অস্থায়ীভাবে তৈরি করা সেতুর প্রায় ৭৫ শতাংশ ভেঙে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে লোকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।  সৈন্যদের আইন মানতে বললেন সেনাপ্রধান মায়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং লাইং সেনা সদস্যদের সামরিক ও আন্তর্জাতিক আইনকানুন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।  বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধানের ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসের অনুবাদ থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সামরিক এক স্কুলে এই বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান। এই সময় তিনি সম্প্রতি রোহিঙ্গা গণহত্যায় যুক্ত থাকার অভিযোগে দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাত সেনাসদস্যের কথা উল্লেখ করেন। গত সেপ্টেম্বরে রাখাইনের ইন ডিন গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যায় ঐ সেনারা অংশ নিয়েছিলেন।  গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে মায়ানমারের সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের বর্বর হামলায় ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত এবং ৮ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। পাশবিক ওই নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।  ২০১২ সাল থেকে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেদেশের সেনা ও উগ্র বৌদ্ধরা মুসলমানদের ওপর নির্বিচার হামলা চালিয়ে আসছে।  সূত্র: ডয়চে ভেলে, রয়টার্স