পাসপোর্ট ও অনুমোদন না থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ১৬ বিদেশি আটক

কক্সবাজার সংবাদদাতা : পাসপোর্ট, ভিসা ও অনুমোদন ছাড়া কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করার অভিযোগে ১৬ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতদের মাঝে দুজন জার্মানির, ৬ জন যুক্তরাজ্যের এবং ৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।  বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আটক করা হয় বলে জানান র‌্যাব-৭ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন।  এর আগে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গ ক্যাম্পের ২৫০ বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করে র্যাাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।   আটকরা হলেন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টিনিট মেরি, আন্দ্রে লোনিসিয়া, স্যামুয়েলকে হেসমাম, ম্যাডিনের বেল হাসেম, ট্যাটাম অ্যাডেলেল নেলসন, ট্রেসি মিশেল হাসলম, মেলিসা ডন নেলসন, জন স্টিভেন ইভলিন, যুক্তরাজ্যের লেন্ডসে গ্রিমশ, নিজার নাজম দাহান, মার্কাস জেমস ভ্যালেন্স, মাজফার, খালিদ হোসেন, ইফতেখার মাসুদ, জার্মানির মার্শাল ও এন্ড্রিস ল্যাংজ।  মেজর রুহুল আমিন আরো জানান, বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ চেকপোস্টে বিদেশি নাগরিকদের তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে ১২ জনের পাসপোর্ট এবং ভিসা সঙ্গে নেই বলে জানায়। ওই ১২ জনসহ ১৬ জনের পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাই করার জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।  উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া কোন বিদেশি নাগরিককে অবস্থান না করার নির্দেশা দিয়েছিল সরকার।  গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মায়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমনপীড়ন শুরু করে সেনাবাহিনী। হত্যা, গণহত্যা, গণধর্ষণ, নির্যাতনের খবরও পাওয়া যায়। অভিযানের পর থেকে রাখাইন থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু আশ্রয় নেয়। তাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করে মিয়ানমার।  এদিকে, হত্যা-নির্যাতনের অভিযোগে মায়ানমারের জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে আসছে।  এদিকে, মায়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। বিভিন্ন দেশ তাকে দেওয়া সম্মান-পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরই মধ্যে মায়ানমার কর্তৃপক্ষ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দেয়।