সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় ২৬ জন চিহ্নিত

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের জেরে গত ১০ এপ্রিল মধ্যরাতে কবি সুফিয়া কামাল হলে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ২৬জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কথা নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।   তিনি জানিয়েছেন, ওই দিনের (১০ এপ্রিল) ঘটনায় জড়িত ২৬ জনকে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি, এদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।  এছাড়া কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে এই সভায়।  ওইদিন মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ উঠে। কবি সুফিয়া কামাল হলে মেয়েদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  এই হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, ‘হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশার ৩০৭ নম্বর রুমে মারধর চলছে। হলের এক শিক্ষার্থীর মাথায় সেলাই দেয়া হয়েছে। দুই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’  এই হামলার প্রতিবাদে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে হল থেকে বের করে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ চলে ওই রাতে। নতুবা হলের সব মেয়ে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।  রোকেয়া হলেও মেয়েদের টর্চার করার অভিযোগ উঠে। রোকেয়া ও শামসুন্নাহার হলের মেয়েরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। জিয়া হলের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্ররাও বাইরে এসে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া স্যার এ এফ রহমান হল, হাজী মুহাম্মাদ মহসিন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জহুরুল হক, এসএম হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগ উঠে।  আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয় কবি সুফিয়া কামাল হলে এক সাধারণ ছাত্রীর পা কেটে ফেলা হয়েছে। ওই অভিযোগ ওঠার পর হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে হল প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেন। অপরদিকে ছাত্রলীগ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।  গত ১৩ এপ্রিল ছাত্রলীগও এশাকে তার আগের পদ ফিরিয়ে দেয়। তখন ছাত্রলীগ বলেছিল, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুসারে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তার ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে পুনর্বহাল করা হলো।