সাধারণ বীমার ৯০ শতাংশ দাবি বকেয়া

উত্থাপিত বীমা দাবির ৯০ শতাংশই পরিশোধ করছে না দেশে ব্যবসা করা সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিগুলোর তৈরি প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে দেশে ব্যবসা করছে ৪৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানি। এর মধ্যে ৩৭টি কোম্পানির বীমা দাবি উত্থাপন ও পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। ডিসেম্বর মাসে এ কোম্পানিগুলোতে প্রক্রিয়াধীন থাকা ৯১ শতাংশ বীমা দাবিই পরিশোধ হয়নি। শুধু ডিসেম্বর নয়, মাসের পর মাস ধরে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোতে দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে এমন চিত্র বিরাজ করছে। নভেম্বর মাসে অপরিশোধিত দাবির হার ছিল ৯৭ শতাংশ। তার আগের মাস অক্টোবরে এ হার ছিল ৯৩ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ৯০ শতাংশ। এভাবে প্রতি মাসেই ৯০ শতাংশের ওপরে বীমা দাবি অপরিশোধিত থেকে যাচ্ছে সাধারণ বীমা খাতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বীমা দাবি উত্থাপনের পরও ডিসেম্বর মাস শেষে দাবির অর্থ পাননি এমন গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৬১৬ জন। মাসটিতে বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রক্রিয়াধীন বীমা দাবির সংখ্যা ছিল নয় হাজর ৪২৯। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে বীমা দাবির অর্থ পেতে আবেদন করেন এক হাজার ৯৮২ জন। বাকি আট হাজার ৫৩০ গ্রাহক ডিসেম্বর মাসের আগেই আবেদন করেন। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে দাবির অর্থ পেয়েছেন এক হাজার ৮৮৯ জন। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সব থেকে বেশি বীমা দাবি অপরিশোধিত রয়েছে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সে। এই কোম্পানিতে ডিসেম্বর শেষে অপরিশোধিত বীমা দাবির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৭০টি। ওই মাসে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ৬১১ গ্রাহকের দাবির অর্থ পরিশোধ করে। তবে এ সময় কোম্পানিতে প্রক্রিয়াধীন দাবির সংখ্যা ছিল এক হাজার ৭৮১টি। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে নতুন উত্থাপিত দাবির সংখ্যা ৫৭৯টি। বাকি এক হাজার ২০২টি দাবি ডিসেম্বর মাসের আগেই উত্থাপিত। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সে অপরিশোধিত বীমা দাবির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৫টি। ডিসেম্বর মাসে কোম্পানিটি বীমা দাবি পরিশোধ করে ২১২ গ্রাহকের। তবে দাবির অর্থ চেয়ে আবেদন করা গ্রাহকের সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৪৭ জন। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে নতুন আবেদন করেন ২৯২ জন। বাকি ৮৫৫ জন গ্রাহক ডিসেম্বর মাসের আগেই দাবির অর্থ চেয়ে কোম্পানিতে আবেদন করেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি ৬৮৪ গ্রাহকের দাবির অর্থ পরিশোধ করেনি। ডিসেম্বর মাসে কোম্পানিটি বীমা দাবির অর্থ দিয়েছে ৩৭ জনকে। অথচ দাবির অর্থ পেতে আবেদন করা গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৭২১ জন। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে আবেদন করেন ৫৩ জন এবং বাকি ৬৬৮ গ্রাহক ডিসেম্বর মাসের আগেই বীমা দাবির অর্থ চেয়ে আবেদন করেন। যোগাযোগ করা হলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য গোকুল চাঁদ দাস  বলেন, গ্রাহক যাতে দ্রুত বীমা দাবির অর্থ পায় সে জন্য আমরা কাজ করছি। যদি কোনো গ্রাহক বীমা দাবির অর্থ সঠিকভাবে না পান বা বাদী অর্থ পেতে হয়রানির শিকার হন, তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ঠিক কী কারণে বীমা দাবির অর্থ বকেয়া পড়ছে তা বলা কঠিন। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো দাবির অর্থ পরিশোধ করে। এ ক্ষেত্রে হয়তো প্রক্রিয়াগত কারণে কিছু সময় লাগতে পারে। তবে বীমা কোম্পানিগুলো দাবির অর্থ দেয় না, এমন তথ্য সঠিক নয়। সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো থেকে গ্রাহক দাবির অর্থ পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগও এখন শোনা যায় না। মেঘনা লাইফ ও কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর দাবির অর্থ পরিশোধের আগে সার্ভে নিয়োগ করে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে। অনেক সময় সার্ভে রিপোর্ট পেতে দেরি হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে সঠিক সার্ভে রিপোর্টও পাওয়া যায় না। মূলত সার্ভে রিপোর্টের কারণেই সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর দাবির অর্থ পরিশোধ করতে দেরি হয়। এরপরও এখন অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কোম্পানিগুলো দ্রুত বীমা দাবির অর্থ পরিশোধ করতে চেষ্টা করে।