সংবাদ সম্মেলনে আসছেন ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী খালেদা হোসেন মুন

: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কারের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন খালেদা হোসেন মুন। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন এই নেত্রী। সেটা দিনের যেকোনো সময় হতে পারে।  খালেদা হোসেন মুন বলেছেন, আমি ২০০৯ সাল থেকে ছাত্রলীগ করি। দলকে মনে-প্রাণে ভালবাসি। এ পর্যন্ত কোথাও আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠেনি। হঠাৎ করেই আমাকে বহিষ্কার করা হলো। এতে আমি বিস্মিত হয়েছি। কেননা, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রেও বহিষ্কারের একটা পদ্ধতি রয়েছে সেটাও মানা হয়নি।  তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো নেতাকে বহিষ্কার করতে হলে অবশ্যই গঠনতন্ত্র মেনে করা উচিত ছিল। আমি তো এক বছর আগেই পাস করে গেছি, এখন আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে থাকি না। ওই দিনও আমি হলে ছিলাম না। এমন কি কোনো ঘটনাও আমার সম্পৃক্ততা নেই। তবে কেন আমাকে এভাবে বহিষ্কার করা হলো?   মুন বলেন, এটা যেহেতু আমার ডিফেন্ডিং বিষয় সেহেতু আমি এককভাবেই সংবাদ সম্মেলন করতে চাচ্ছি। অন্যেরাও যদি চায় তারাও করতে পারে। তবে আমি এককভাবে সংবাদ সম্মেলনে আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই। সেই সঙ্গে আমাকে যে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে তাও তুলে ধরতে চাই।  ছাত্রলীগ বহিষ্কৃত এই নেত্রী আরো বলেন, ওই দিনের ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই আমি জড়িত নই। আমাকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আমার সঙ্গে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো জিজ্ঞসাবাদ কিংবা কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি। এমন কি কোনো ধরনের নোটিশও দেয়া হয়নি।  প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের ২৪ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।  এতে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের এক অনাকাঙ্খিত ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় এই ২৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।  ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন সোমবার রাতে এই বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করেন।  বহিস্কৃতরা হলেন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন,ঢাবি ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মুর্শেদা খানম,আতিকা হত স্বর্ণা,মিরা,সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতী আক্তার সুমি, সহ-সম্পাদক শ্রাবণী,যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার সুমি, ঢাবি চারুকলা বিভাগের উপ-তথ্য ও গবেশষনা সম্পাদক আশা, নাট্যকলা বিভাগের লিজা, মিথিলা নুসরাত বৈতী, সঙ্গীত বিভাগের মোনম সীথি, চারুকলার সুদীপ্তা মন্ডল,সঙ্গীত বিভাগের প্রিয়ংকা দে, নৃ বিজ্ঞান বিভাগের শারমিন সুলতানা,উর্দু বিভাগের মিতু, ভূতত্ত্ব বিভাগের শিলা,জাকিয়া,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মনিরা, রুনা, শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের জুঁই,চারুকলা বিভাগের অনামিকা দাস, সঙ্গীত বিভাগের প্রভা, বাংলা বিভাগের তানজিলা ও সমাজকল্যাণ বিভাগের তাজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ ছাত্রলীগ নেত্রী।  সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার সময় গত ১০ এপ্রিল রাতে ওই হলে আন্দোলনে যোগ দেয়া ছাত্রীদের মারধর করার এক ঘটনার খবর বেরোয় পরদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে।  এ ঘটনা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে ওই সংগঠন থেকে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করা হয়।  তবে পরে ছাত্রলীগের এক তদন্তের পর তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পদে পুনর্বহাল করা হয়।  তার পরই এই ২৪ জনকে বহিষ্কারের খবর এলো। বহিষ্কৃতদের মধ্যে কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের অন্যতম সহসভাপতি মুর্শেদা খানমও রয়েছেন। সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল যে তাকে ইফফাত জাহান এশা মারধর করেছেন।  বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের আরেকজন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন বিবিসির কাছে এ কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, বহিষ্কারের কথা তাকে জানানো হয়েছে।