রাজীবের পক্ষে মামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজীবের পক্ষে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট মামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে এ কথা জানান এই আইনজীবী। তিনি বলেন, রাজীবের মৃত্যু অপ্রত্যাশিত ছিলো। তার মৃত্যুতে আমি ব্যাথিত। রাজীব বেঁচে থাকা অবস্থায় তার হাত কাটার ঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আমি হাইকোর্টে রিট করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের জীবন টাকা দিয়ে কিনতে পাওয়া যায় না। রাজীব মারা যাবে বিশ্বাস হচ্ছিলো না। সকালে শুনলাম রাজীব আর নেই। এ খবর শুনে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আদালতে রাজীবসহ এ যাবত যারাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত,নিহত হয়েছেন, তাদের সকলের জন্য নির্দেশনা চেয়ে শুনানি করবো। এই আইনজীবী আরও বলেন, জীবনের মুল্য টাকা দিয়ে কিনতে পাওয়া যায় না। আদালতে রাজীবের জীবনের রেফারেন্স দিয়ে বলবো, যারা রাস্তায় যানবাহনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের সকলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন দেয়ার। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ এপ্রিল সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউ’তে মারা যান রাজীব হোসেন। তার মামা আজিজুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাস ও স্বজন পরিবহনের একটি বাসের পাশাপাশি চাপায় ডান হাত কেটে যায় রাজীবের। বিআরটিসি বাসে রাজীব দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার ডান হাতটি সামান্য বাইরে ছিল। পেছনে থেকে হঠাৎ করে আসা স্বজন পরিবহনের একটি গাড়ি বিআরটিসি বাসের গা ঘেঁষে ওভারটেক করার সময় রাজীবের হাত চাপা পড়ে। এতে তার ডান হাতের কবজির উপর থেকে কেটে যায়। মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও আঘাত পান তিনি। আহত রাজীবকে দ্রুত সমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখানে রাজীবের অবস্থার অবনতি হলে তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। গত কয়েকদিন তার অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরাও রাজীবের খারাপ অবস্থার কথা জানান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান শামসুজ্জামান শাহীন গত ১০ এপ্রিল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজীবের সর্বশেষ সিটিস্ক্যান রিপোর্ট খুবই উদ্বেগজনক। তিনি জানান, গ্লাসগো কমা স্কেল (জিসিএস) ১৪ থেকে ১৫ হলে মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করে বলে ধরে নেওয়া হয়। ৮ থেকে ৯ হলে বুঝতে হবে রোগীর অবস্থা সংকটজনক। রাজীবের জিসিএস লেভেল এখন ৩।’ রাজীবের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে সেদিন কান্না সংবরণ করেন এই ডাক্তার। এদিকে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিআরটিসির বাসচালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন পরিবহনের চালক খোরশেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৬ এপ্রিল সোমবার আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ছোটবেলায় বাবা-মা হারানো রাজিব বড় হয়েছেন তার খালার কাছে। গত ৪ এপ্রিল, বুধবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহনের জন্য বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ ও স্বজন পরিবহনের মালিককে নির্দেশ দেন। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজি), ডিএমপি কমিশনার, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি)’র চেয়ারম্যান, বাস (স্বজন) পরিবহনের মালিকসহ আটজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।