প্রশ্ন ফাঁস : ১১ দিন ধরে উধাও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা জাফর

প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর থেকে এখন উধাও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুমদার ওরফে রুবেল। সর্বশেষ তিনি অফিস করেছেন গত ৫ এপ্রিল। এর পরেরদিন রাতে রাজধানী থেকে উধাও। ডিবি পুলিশ কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও তার সন্ধান পাননি।  ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৬ এপ্রিল (শুক্রবার) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যে উঠে আসে পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসে ‘তাত্ত্বিক লিডার’ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক জাফর। এরপর থেকে পলাতক তিনি। বেশ ক’টি জায়গায় অভিযান চালিয়েও সন্ধান মেলেনি জাফরের।   অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অফিসিয়ালি ছুটি না নিয়েই ছুটি কাটাচ্ছেন সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুমদার ওরফে রুবেল। কি কারণে অফিসে আসছেন না, তার বক্তব্য ছাড়া সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না।  ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান  বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর। কার্জন নামের অন্য এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও পুলকেশ দাস বাচ্চু নামে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজন সহযোগী নিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করে আসছিলেন তিনি। কয়েক বছর ধরে প্রশ্ন ফাঁস করে এই চক্রটি কয়েক কোটি টাকা আয় করেছে। মেধাবী হলেও ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেও জালিয়াতি করে চাকরি নেন।  তিনি বলেন, পলাতক জাফরের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দফরের জেনারেল ম্যানেজার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তথ্য চেয়েছি। তাকে গ্রেফতারে সহায়তা চেয়েছি। যদিও তিনি এখন পর্যন্ত পলাতক।  এ ডিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা পুলকেশ ওরফে বাচ্চু নজরদারিতে রয়েছে। তবে প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াত চক্রের মূলহোতা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুমদার গা ঢাকা দিয়েছেন। তাকে ও ডিভাইস সরবরাহকারী কার্জনকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে গিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন আবু জাফর মজুমদার। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে কর্মরত। বাসা মিরপুর এলাকায়।  এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্স ডিমার্টমেন্টের (এইচআরডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। ব্যাংকের আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশিস চক্রবর্ত্তী বলেন, প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জড়িত বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে।  তিনি বলেন, কোনো কর্মী যদি ছুটি না নিয়ে অনুপস্থিত থাকেন। নিয়ম অনুযায়ী তাকে অনুমোদিত ছুটি দেয়া হয়। এ ছুটি একদিনও হতে পারে একমাসও হতে পারে; তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে প্রমাণসহ কারণ দর্শাতে হবে। তবে কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে অপরাধী হয় তাহলে নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া পুশিল গ্রেফতার করলেও বহিষ্কার করা হয়। আর এসব ব্যবস্থা নেবে ব্যাংকের এইচআরডি বিভাগ।