ধামরাইয়ে বাড়ীর সীমানা নিয়ে সংঘর্ষ আহত ১৫,গুলিবর্ষন, বাড়ীঘর ভাংচুর

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে সূয়াপুরে বাড়ীর সীমানা নিয়ে দুইপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে ১৫জন আহত হয়েছে। এসময় ভাংচুর করা হয়েছে বাড়ী-ঘর ও কয়েকটি মোটরসাইকেল। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে সূয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিন সূয়াপুর গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার থেকে জানা গেছে,দক্ষিন সূয়াপুরের মোতালেব মিয়া ও জুলমত আলীর বাড়ীর সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছিল। এনিয়ে শুক্রবার বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান সোহরাব,ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন,গণ্যমান্য ব্যক্তি ও থানার এস আই ভজন রায়ের উপস্থিতিতে স্থানীয় কয়েকজন সার্ভেয়ার দিয়ে মাপঝোঁক করা হয়। সীমানা নির্ধারনের শেষ পর্যায়ে উভয়পক্ষ একটি আপোষনামাও সম্পন্ন করে। এসময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের মোতালেব মিয়া,আবদুল হামিদ,মালেকা বেগম,ফামেতা, শাহীন, আবদুল মান্নান ওরফে মুন্নাফ,জুলমত আলী তার স্ত্রী আমেনা,সাকিম উদ্দিনসহ ১৫জন আহত হয়। ভাংচুর করা হয় বসতঘরসহ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল এবং সোহরাব চেয়ারম্যানকে অবরোধ করে রাখে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুন্নাফকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনার জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে রাত নয়টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় চেয়ারম্যান সোহরাবকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোতালেব মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এ ঘটনার জেরে শনিবার সকালে সূয়াপুর বাজার মোড়ে চেয়ারম্যান বিরোধীরা একটি ঝাড়– মিছিল বের করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিলটি। এসময় সেখান থেকে পুলিশ একজনকে আটকের পর ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 মোতালেব মিয়া বলেন,সোহরাব চেয়ারম্যান জুলমত আলীর পক্ষ নিয়ে আমার বাড়ী দখল করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে।

সোহরাব হোসেন বলেন,রাজনীতিতে বিভাজন থাকায় কোন উসিলা পেলেই আমার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হচ্ছে বর্তমান এমপি এম এ মালেকের মদদে। আমার উপর জুলুম করা হচ্ছে এমপির নির্দেশে।

 এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ রিজাউল হক দুই রাউন্ড ফাঁকাগুলি বর্ষনের কথা স্বীকার করে বলেন,এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।