কারাগারের বিশ্রামে খালেদা জিয়া আগের চেয়ে সুস্থ: হাছান মাহমুদ

কারাগারের বিশ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগের চেয়ে বেশি সুস্থ বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘‘আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে কারাগারের ডিভিশনে শীতাতপ ব্যবস্থা কেউ পাননি, খালেদা জিয়া তা পাচ্ছেন। জেলকোড অনুযায়ী নিজের পছন্দের পরিচারিকা রাখার সুযোগ নেই, কিন্তু তিনি তাও পাচ্ছেন। কারাগারে যাওয়ার আগে আমরা দেখতাম, খালেদা জিয়াকে হাত ধরে গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে, আবার হাত ধরে তোলা হচ্ছে। কিন্তু সেদিন যখন তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গেলেন তখন আমরা দেখলাম, তিনি হাত ধরা ছাড়াই গাড়ি থেকে নামছেন এবং উঠছেন। চিকিৎসকরা যখন হাত ধরে নামাতে চাইলেন, তখন তিনি নিজেই বললেন— ‘হাত ধরা লাগবে না।’ অর্থাৎ তিনি সুস্থ আছেন। আগের চেয়ে অনেক বেশি ভালো আছেন।’’ কেউ কেউ ধর্মকে সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় মুসলমানেরা উলু ধ্বনি দেয়। এতে তারা মুসলমান থেকে হিন্দু হয়ে যায়নি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বিভিন্ন উৎসবে উলু ধ্বনি দেওয়া হয়। এটা তাদের সংস্কৃতির অংশ। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানও আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এখানে ধর্মকে টেনে আনা উচিত নয়। যারা এগুলো করে তারা একটি বিভক্তি দেখানোর চেষ্টা করে। আর এগুলো যারা বলে তাদেরকে যারা বাতাস দেয়, তারা আসলে দেশটাকে বিভক্ত করতে চায়। যারা এটার মধ্যে তাল দেয়, তারা হচ্ছে বিএনপি জামায়াত গোষ্ঠী।’ ২৪ বছর আগে বাংলা ১৪০১ সালের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পালন করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিশেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন উদ্যানে প্রবেশ করে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান পালন করেছিলেন। অর্থাৎ বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান পালন করতে দেওয়া হয়নি। কারণ, তারা দেশটাকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে চায়। আমাদের দেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে সব ধর্মের মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই দেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। ১৯৭৫ সালের পর খালেদা জিয়াও এদেশটা চায়নি। এই দেশ চাইলে যুদ্ধের ৯ মাস তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে ক্যান্টনমেন্টে থাকতেন না।’ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হয়েছে সেখানে আমাদের সংস্কৃতি থেকেও দ্বিজাতীয় সংস্কৃতি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বর্ষবরণের সমাবেশে তারা বলেছেন খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। আপনাদের রাজনীতি কি দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বেগম জিয়াকে রক্ষা করা, নাকি বিএনপিকে রক্ষা করা? যদি বিএনপিকে রক্ষা আপনাদের রাজনীতি হয়— তাহলে অবশ্যই আপনারা আগামী নির্বাচনে আসুন। গতবারের মতো বেগম জিয়ার সিদ্ধান্ত এবং তারেক জিয়ার পরামর্শে যদি নির্বাচনে না আসেন, এখন তো আপনাদের নেতারা গর্তের মধ্যে আছে। গর্তের মধ্যে দেখা যায়, কিন্তু ভবিষ্যতে গর্তের মধ্যেও দেখা যাবে না।’