সরকারের কূটচালের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন রিজভী

: ‘কোটা সংস্কারের বদলে কোটা বাতিল করার পর এখন সরকার কি কূটচাল চালে সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকবে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  এসময় রিজভী সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, গতকাল (১২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছেন, জনগণ ভোট দিলে আগামীতে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে। আপনি কী জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন? আপনি তো নিজের ভোটও নিজেকে দেননি। দেশ পরিচালনা করতে আপনাদের তো জনগণের ভোটের প্রয়োজন হয় না। আপনাদের মুখে জনগণের নিকট ভোট চাওয়ার কথা রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই চলতি অধিবেশনে মহিলা এমপি বেগম খুরশেদ আরা হক বলেছেন, ‘কিছু মানুষ আছে শুধু নির্বাচন নির্বাচন বলে, আমি নির্বাচন চাই না, নির্বাচন হলে মানুষ মারা যায়, আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রী তো সবসময় হ্যাঁ বলেন, তিনিই বিরোধী দলীয় নেত্রী থাক, আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীই থাক, উনার পরিবার ক্ষমতায় থাক, প্রধানমন্ত্রী কষ্ট করে যে টাকাগুলো জমিয়েছেন এগুলোর ওপর লোভ পড়েছে, প্রধানমন্ত্রী না থাকলে টাকাগুলো পাচার হয়ে যাবে।’ ব্যাংক তো এখন উষর মরুভূমি, তাহলে জমানো টাকাগুলো কোথায় আছে, মানুষ তা জানতে চায়।  তিনি বলেন, ভোট ছাড়া আবারও কিভাবে ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, কিভাবে বিনা ভোটে আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়, সেই পথ নকশা এঁটেই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জাল নথির মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আগামীতে যে আর বিনা ভোটের নির্বাচন শেখ হাসিনা করতে পারবেন না সেটি তিনি উপলব্ধি করেছেন বলেই জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জোটের এমপিদেরকে দিয়ে নির্বাচন না করানোর জন্য অর্বাচীনের মতো বক্তৃতা করাচ্ছেন।  এসময় বিএনপির এই মুখপাত্র সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার জনগণের ভোটাধিকার জনগণ প্রয়োগ করবেই। যেকোন ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন কখনো বৃথা যায় না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনের কাছে সরকার যেভাবে মাথা নত করেছে তাতে যুবক, যুবতী, তরুণ-তরুণীসহ সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে পাওয়া, দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায্য আন্দোলনও বৃথা যাবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সেই আন্দোলনে বিজয় অর্জিত হবেই। বেগম খালেদা জিয়া বিহীন জাতীয় নির্বাচন আর এদেশে অনুষ্ঠিত হবে না, জনগণ তা হতে দেবে না। আর বেশী সময় নেই, আপনাদের সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, এই মুহূর্তে সর্বপ্রথম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর তা না হলে জনগণ আর অপেক্ষা করবে না। নইলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং শেখ হাসিনার পতন এক সাথে সংঘটিত হবে। বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে এবং মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে যে আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলনের বিজয় অতি সন্নিকটে। চক্রান্ত করে বন্দুকের জোরে মানুষের অধিকারকে দমিয়ে রাখা যাবে না।  তিনি জানান,গত পরশু বিএনপির আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে বেগম জিয়া আইনজীবীগণকে বলেছেন, তারা যেন আমার পক্ষ থেকে দেশের জনগণ, দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ সকলকে বাংলা নববর্ষের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানান।   বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের দুঃশাসন, লুটপাট ও দুর্নীতির করালগ্রাসে দেশে এখন নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।  তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশে নিত্যপণ্যসহ দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতি, গ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বিনিয়োগ না থাকায় নতুন কর্মসংস্থান নেই, বিদেশী রেমিটেন্স আসা প্রায় বন্ধ, বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে, রাস্তাঘাট বেহাল দশার কারণে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলোও রিকসা ভ্যান, সিএনজি চালানোসহ যে সকল কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো, সেটুকুর সুযোগও আজ নেই। গত বছরের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্বিপাকে কৃষকের ফসলহানির পর সরকারের সবদিকে ব্যর্থতার কারণে চালের দামসহ সকল খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে মানুষ এখন দু’বেলা দুমুঠো ভাতও পাচ্ছে না।  সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গতকাল কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষ সরকার ঘোষিত ১০ টাকা কেজির চাল নিতে গেলে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়। ছাত্রলীগ-যুবলীগ ১০ টাকা কেজির চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় নিজেদের ভাগাভাগি নিয়ে দফায় দফায় গুলিবর্ষণ, আক্রমণ ও সংঘর্ষ চলে। এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ মনোনীত ডিলারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করলে একপর্যায়ে এই ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর ওপর গুলি চালায় তারা। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশে দুর্ভিক্ষ নামে। ৭৪’র দুর্ভিক্ষের কথা মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। কুড়িগ্রামের ঘটনা ৭৪’র দুর্ভিক্ষেরই আলামত।