কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রত্যাহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নেয়ায় আন্দোলনরত কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রত্যাহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার জানাবেন শিক্ষার্থীরা। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারা দেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।  বুধবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে সংসদে প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি বাতিল করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর কোটা সংস্কার নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাতে বিচার-বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকালে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।  আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের পক্ষে নুরুল হক নূর টিএসসি রাজু ভাস্কর্যে সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ২০ জন বসে রাতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেবেন। সকালে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে আজকের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন তিনি।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিই থাকবে না। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হবে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বিকেল ৫টায় অধিবেশন শুরু হয়। কোটাসংস্কার নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।  উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হলো- কোটা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনা, কোটা প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া, চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া এবং চাকরি ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্ক ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা।  এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত রবিবার দুপুরে কোটা সংস্কার দাবিতে শাহবাগে জড়ো হয়ে পদযাত্রা কর্মসূচি করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের অবস্থানে রাত আটটার দিকে পুলিশ চড়াও হলে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে এই সংঘর্ষ পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশসহ দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। অনেককে আটক করে পুলিশ।  এরপর গতকাল সোমবারও দিনভর বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিকালে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জাসান খান কামালের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি বৈঠক করেন।  বৈঠকের পর বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তারা সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করছেন। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে মুক্তি দেওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।